পৌষের শেষে এসে গরমে ঘামছে মানুষ। যে সময় সাধারণত শীতের প্রকোপে কেঁপে ওঠার কথা দেশ সে সময়ে গরমের কাপড় গায়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কেন এই অবস্থা জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীতের সময় সাধারণত উত্তর পশ্চিমের হাওয়া হয়ে যায়। এতে বেড়ে যায় শীতের প্রকোপ। কিন্তু হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন এই হাওয়া কমে যাওয়ায় মূল কারণ আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরব সাগর থেকে আসা জ্বলীয় বাষ্প। এই দুই কারণেই বেড়ে গেছে দেশের তাপমাত্রা। এছাড়া সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য বেড়ে যাওয়াটাকে কারণ হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
আগামী দু’দিন এই আবহাওয়াই বিরাজ করবে দেশের। তবে এরপর আবার কিছুটা কমলেও মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত একই রকম থাকতে পারে। মধ্য জানুয়ারির দিকে আবার একটি মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজারহাটে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১১.৮ ছিল। এ থেকে বোঝা যায় ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা।
বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় আজ ১৭, ময়মনসিংহে ১৪.৮, চট্টগ্রামে ১৮.৪, সিলেটে ১৬.৫, রাজশাহীতে ১৩.৫, রংপুরে ১৫, খুলনায় ১৭. ৩, এবং বরিশালে ১৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে সব জেলায় ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে।
গত কয়েকদিন ভোরের দিকে এবং সন্ধ্যায় কিছুটা ঠান্ডার অনুভূতি থাকলেও দুপুরে গরম লাগে। বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতে তো গরমের কারণে অনেকেই রাতে গরম কাপড় গায়ে নিয়ে ঘুমাতেই পারেননি। মধ্য পৌষে রীতিমতো ফ্যান ছেড়ে ঘুমাতে হয়েছে অনেককেই।
উত্তরা থেকে রেহানা সুলতানা জানান, রাতে গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার শাশুড়ি। পরে ঠান্ডা পানিতে গা মুছিয়ে ফ্যান ছেড়ে সুস্থ করা হয়েছে।
একই অবস্থা রামপুরার বাসিন্দা কাজী মিলির। তিনি জানান, রাতের বেলা গরমে ঘুমাতে পারছি না। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা ঘেমে যাচ্ছে বার বার। ফ্যান ছেড়ে ঘুমালে আবার ভোরের দিকে শীত শীত অনুভূতি হয়। আজব এক অবস্থা।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত এমন তাপমাত্রায় বিরাজ করবে। আগামী দুইদিন তাপমাত্রা একই থাকবে। এরপর কিছুটা কমলেও খুব কমবে না। তবে মধ্য জানুয়ারির পর আরও একটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তবে তা মাঝারি ধরনের হতে পারে। তীব্র নাও হতে পারে।’
হঠাৎ এই গরমের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উত্তর পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ কমে যাওয়া এবং আরব সাগরের গরম বাতাসের সাথে জ্বলীয় বাষ্প মিশে যাওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে অস্থায়ী ভাবে আকাশ মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, শুধু বাতাস কমে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে রাত ও দিনের যে তাপমাত্রা তারমধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য বেড়ে যাওয়াও একটি কারণ
শীতকালে সাধারণত এই দুইয়ের পার্থক্য কমে যায় এতে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়, শীতের অনুভূতিও বেশি লাগে।









