কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আতিয়া জাহান ওরফে মৌ হত্যার বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা।
বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত মা রওশন আরা কবিতা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে আতিয়াকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার পর ৭ মাস পার হলেও এখনও আসামিদের ধরা হয়নি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, শহরের ক্ষমতাধর ব্যক্তির ছত্রছায়ায় আসামিরা তাদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে তারা এখন নিরাপত্ত্বাহীনতায় ভুগছেন। ষড়যন্ত্র এবং চাপের মুখে পুলিশও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
থানা পুলিশ ও দুর্নীতিগ্রস্থ ডাক্তারদের পরস্পর যোগসাজসে ধর্ষণ ও হত্যার আলামতসমূহ গায়েব করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, পুলিশের গাফিলতির কারণেই পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নিহতের বোন আফরিন আলম, সাদিয়া আলম, সামিরা আলম, খালা মমতাজ আরা, মার্জনা আক্তার, খালু আবুল বাসার সরকার ও ফুফা জালাল উদ্দিন।
পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৭ নভেম্বর বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকার নিজ বাসা থেকে আতিয়ার (২২) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন তাঁর মা রওশন আরা বাদী হয়ে সদর উপজেলার গোপদীঘি এলাকার ইউসুফ হায়দার রিফাত, বত্রিশ এলাকার টিটু ও রাজিবকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে রিফাত কারাগারে থাকলেও ঘটনার প্রায় ৭ মাস হলেও টিটু, রাজিব ও ঝুমুর এখনো গ্রেফতার হননি। মামলার তদন্তে পুলিশের অবহেলার কারণে বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারি মাসে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেওয়া হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে এ মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ হায়দার ওরফে রিফাতকে (৩০) সদর উপজেলার বৌলাই এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
সিআইডি কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আমরা আতিয়া জাহান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রিফাতকে ধরেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রেম-বিষয়ক ঘটনায় রিফাত এই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। বাকি আসামিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
/এসএনএইচ/








