শনিবার দুপুর ১২টার দিকে খুলনা ও মংলা উপকূল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। এর প্রভাবে খুলনা মহানগরীতে ব্যাপক বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু পানি জমে গেছে। রোয়ানুর আতঙ্কে খুলনা ও বাগেরহাটের উপকূলীয় ৯টি উপজেলার ৩২ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।
উপজেলাগুলো হচ্ছে খুলনার দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া এবং বাগেরহাটের মংলা, শরণখোলা, রামপাল ও মোড়েলগঞ্জ।
খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাব থেকে নিরাপদে থাকার জন্য খুলনার ৫টি উপজেলায় ২০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। ঝড়টি খুলনা অতিক্রম করার পরই প্রায় ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কাজে নেমে পড়েছেন।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলার উপকূলীয় ৪টি উপজেলার থেকে ১২ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। শরণখোলা উপজেলার ৮ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। মংলায় ২ হাজার, রামপালে ১ হাজার ও মোড়েলগঞ্জের দেড় হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু খুলনা, মংলা, বরিশাল ও পাটুখালী উপকূল অতিক্রম করে। ঝড়ের প্রভাবে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয় আরও ৪৯ মিলিমিটার। এর আগে রোয়ানুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে রোয়ানুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
বরগুনায় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে বেড়িবাঁধে ভাঙন: ৩৫ গ্রাম প্লাবিত
/জেবি/এফএস/








