জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যাওয়া এলাকার পানি সরাতে চট্টগ্রামের মহেশখালে নির্মিত বাঁধ কাটতে এসেছিলেন একদল লোক। কিন্তু গুলি ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে তাদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মহেশখালের বন্দর রিপাবলিক ক্লাব সংলগ্ন অংশে নির্মিত বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় চার পুলিশ সদস্যসহ আহত হন ১৫ জন। এ সময় বাঁধ কাটতে আসা লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে মোট ৩৪ রাউন্ড কাঁদুনে গ্যাস ও শর্ট গানের গুলি ছোড়া হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার ইটের আঘাতে আহত হন বন্দর থানার ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম। আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ওসি ছাড়া আহত অন্য পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি-পোর্ট) হারুন-উর-রশিদ বলেন, বিকেল ৩টার দিকে বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড ও সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩০০ বাসিন্দা অস্থায়ী বাঁধ কাটার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
দুপুরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু চট্টগ্রাম অতিক্রমের সময় উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়। এ সময় মহেশখালের ওই বাঁধের উজানের নীমতলা, আদর্শপাড়া, মুন্সীপাড়া ও মাইজপাড়া এলাকায় পানি ঢুকে যায়। জলোচ্ছ্বাসের এই পানি সরাতে বাঁধ কাটতে আসে ওই এলাকার বাসিন্দারা।
কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি মহেশখাল দিয়ে ঢুকে নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে জলাবদ্ধতা তৈরি হত। এ সমস্যা নিরসনে গত বছর বন্দর রিপাবলিক ক্লাব সংলগ্ন মহেশখাঁলে ওই বাঁধ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বাঁধের উজানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর উত্তর মধ্যম হালিশহর এবং ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড দুটির অবস্থান। বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই ওই দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন।
ওই জায়গায় বাঁধ নির্মাণে একটি অংশ জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচলেও অনেকে প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়ায় এর সমালোচনা করেন পরিবেশবাদীরাও। বিকালে এই সংঘর্ষের পর মহেশখালের বাঁধ এলাকার স্লুইসগেইট খুলে দেওয়া হয়।
/এমপি/








