নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ও চান্দাই ইউনিয়নে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় স্কুল শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১৫ জন হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা ৮টি দোকান ও ৫টি বাড়ি ভাঙচুর করে। এসব হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দায়ী করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়,শনিবার নির্বাচনের ফলাফলে জোনাইল ইউনিয়নে তোজাম্মেল হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আযাদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৮৬ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে।
আরও পড়তে পারেন: কত বলব, গুঁড়ো দুধ শিশুর জন্য খুবই ক্ষতিকর!
রবিবার সকাল ৭টার দিকে ইউনিয়নের চামটা গ্রামে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও পরাজিত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নৌকা সমর্থকদের ৫টি দোকান ও ৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় তাদের মারপিটে ১২ জন আহত হয়।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অপরদিকে চান্দাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান খেচু চশমা প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৮১৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আতাউর রহমান জিন্নাহ নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৯৩ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর ইউনিয়নের বিজয়ী প্রার্থী আনিসুর রহমান খেচুর সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী আতাউর রহমান জিন্নাহর (নৌকা) সমর্থক, চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে (৫০) স্কুল মাঠে বেদম পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে। এসময় তার ছোট ভাই ডা. মাহবুবের ওষুধের দোকানও ভাঙচুর করা হয়।
আরও পড়তে পারেন: কেন্দ্রের ফলাফল পাল্টে গেল উপজেলায় গিয়ে!
এর আগে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শনিবার রাত ৮টার দিকে দাসগ্রামে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন এক সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল ইসলাম মালিথার সারের দোকান ‘মালিথা ট্রেডার্স’ ও ওসমান গণির ‘সেজান বেকারী’তে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অন্যদিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে নৌকার ভোটার সোলায়মান হোসেন ও আব্দুল আজিজকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আহতদের মধ্যে জোনাইল ইউয়িনের চামটা গ্রামের আফসার আলী, আব্দুস সামাদ ও সাইদুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সুজন, আজেদা ও আরজিনাকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সোহেল, পলাশ, কাওসার, রেজাউন্নবী, ফারুক ও রবিউলকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া চান্দাইয়ের আবুল কালাম আজাদকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান,সহিংসতার খবর পাওয়ার পর উভয় ইউনিয়নেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি।
/এমএসএম /








