স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কুষ্টিয়ার তামাক কারখানাগুলো

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া
৩১ মে ২০১৬, ১৩:৪৭আপডেট : ৩১ মে ২০১৬, ১৩:৪৭

কুষ্টিয়ার একটি তামাক কারখানায় কাজ করছেন নারীরা কুষ্টিয়ার বেশিরভাগ তামাক কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এ জন্য মালিকদের উদাসীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। জেলার ছোট-বড় প্রায় ২ শতাধিক গোডাউনে কর্মরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ যক্ষ্মা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও আলসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় দুইশ’ তামাক কারখানা আছে। এরমধ্যে শীর্ষে রয়েছে বিএটিবি, নাসির টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ, আবুল খায়ের টোব্যাকো লিমিটেড, আকিজ গ্রুপের ঢাকা টোব্যাকো লিমিটেড, বিআরবি গ্রুপের পারফেক্ট টোব্যাকো, গ্লোব টোব্যাকো ইত্যাদি। এছাড়াও নাসির বিড়ি, মুনছুর বিড়ি, মোনমোহন বিড়িসহ বিভিন্ন কারখানায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শত শত শ্রমিক। প্রতিটি কারাখানাতেই সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তামাক ক্রাসিং, গুল, খইনি, ভেজাপাতাসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব কারখানায় শিশু, নারী-পুরুষ মিলে কর্মরত রয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

চিকিৎসকরা বলছেন, তামাকের তিকর উপাদান শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ফুস ফুসে গিয়ে জটিল রোগ হয়। যা মানব শরীরের জন্য ভয়াবহ। শিল্প কারখানা আইনে ১০ জনের বেশি শ্রমিক কারখানায় কাজ করলে তিন মাস পর পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কারখানা মালিকরা তা মানছেন না। এছাড়া তামাক নির্ভর শিল্প কারখানার পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত আছে কিনা, সেটিও কখনও পরীক্ষা করে দেখা হয় না। এ ব্যাপারে শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে যেমন সচেতনতা বাড়ানো দরকার,তেমনি কারখানার মালিকদের ব্যাপারেও আইনী প্রয়োগ হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য মীর আব্দুর রাজ্জাক জানান, কুষ্টিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো নিয়ম নীতি মানছে না। তামাক আবাদের ফলে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। তেমনি আবার আবাদ করতে গিয়ে শারিরীক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন চাষীরা।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে তামাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক আলেয়া খাতুন জানান, সংসারের অভাবের কারণে তামাক কারখানায় কাজ করতে হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করলে ৫০ থেকে ৮০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। এই টাকা দিয়ে কোনও রকমে সংসার চালাতে হয়।  একটানা এই কাজ করে এরইমধ্যে অনেকে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন বলে তিনি জানান।

এই ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, তামাকের কারণে ভয়ঙ্কর গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস দেখা দিতে পারে। মূলত তামাক প্রক্রিয়াকরণের সময় নিকোটিন চামড়ায় লেগে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস জানান, সিগারেট কোম্পানিগুলোর সহায়তার কারণে তামাক চাষে অল্প সময়ের মধ্যে কৃষক ভাল অর্থ পাচ্ছেন। তবে তামাক মাটি থেকে খুব বেশি পুষ্টি উপাদান শুষে নেয়। ক্ষেতে প্রচুর সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় মাটির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়। বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের জানানো হচ্ছে।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের বাংলাদেশ প্রোগ্রামের তাঈফুর রহমান বলেন, যে হারে দেশে তামাকের চাহিদা বাড়ছে, তার চেয়ে বেশি হারে চাষ বাড়ছে। যা আগামী দিনের কৃষি অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তামাকের ক্ষেতে কয়েক বছর পর অন্য কোনও ফসল হয় না।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান জানান,অতিরিক্ত তামাক চাষের ফলে শিশুসহ বয়সবৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তামাক চাষ বন্ধ না হলে জেলাজুড়ে ব্যাপকহারে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

/জেবি/ এপিএইচ/আপ-এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম