যৌতুকের টাকা পরিশোধ না করায় ও পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্ত্রী নুপুর বেগমকে (২০) নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল শরীফের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার নুপুর বর্তমানে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লোক্সে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় নির্যাতিত নুপুরের ভাই শাহিন খান বাদী হয়ে ফয়সাল, তার বাবা সালাম শরীফ ও ভাই ফায়জুল শরীফকে আসামি করে গত রবিবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা করেন।
পুলিশ গত রবিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও তার ভাই ফায়জুল শরীফকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম।
পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল বর্তমানে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকলেও তিনি কাউকে না জানিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে বাড়ি গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বাবুগঞ্জ থানার ওসি আবদুস সালাম।
নির্যাতিতার ভাই শাহিন খান জানান, দেড় বছর আগে তার বোন নুপুর আক্তারের সঙ্গে ঝালকাঠির নবগ্রাম ইউনিয়নের মুরাসাতা গ্রামের ফয়সাল শরীফের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ফয়সালের দাবিকৃত যৌতুকের দুই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ফয়সাল সম্প্রতি আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তার বোন নুপুরকে নির্যাতন করে আসছিলেন।
এছাড়া ফয়সাল ঝালকাঠির র্কীতিপাশা গ্রামের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আসমা আক্তার আশার সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরে। এতে নুপুর বাধা দিলে তার ওপর আরও নির্যাতন করা হয়।
গত ৮ জুন সকালে ফয়সাল ছুঁটিতে বাড়িতে এসে নুপুরকে রড ও লাঠি দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে নুপুর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
প্রায় চার ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে আসলে ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা নুপুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় আটকে রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে ওই এলাকার বাসিন্দা হালিম খান নুপুরকে উদ্ধার করে উজিরপুরের গুঠিয়া বন্দরে দিয়ে যান।
খবর পেয়ে নুপুরকে তার পরিবারের সদস্যরা এসে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
/এসএনএইচ/








