বরিশাল নগরীর বটতলা মুন টেইলার্সে মেয়ের ঈদের জামা বানাতে এসেছেন হোসনে আরা বানু। তবে দর্জি দোকানি কামাল হোসেন বলছেন, এখন আর সময় নেই। দশ রোজা থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করেছি। শেষে বাচ্চা মেয়ের অনুরোধে মন গলে দর্জি কামালের।
এ ঘটার মাধ্যমেই বোঝা যায় পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে কতটা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন বরিশালের দর্জিরা। ঈদের আগে সব কাজ সময় মতো বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য দর্জিরা অতিরিক্ত কারিগর নিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। তবে এবার ২০ রোজার পরে আর অর্ডার নেবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে ও মার্কেটে ২৫০টির মতো দর্জির দোকান রয়েছে।
দর্জিরা জানান রোজার প্রথম দিক থেকে বৈরি আবহাওয়া থাকার কারণে অর্ডার একটু কম আসে। তবে এখন প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে রাত দিন ২৪ ঘণ্টা চলছে সেলাইয়ের কাজ।
সরজমিনে বরিশাল নগরীর বটতলা বাজার সংলগ্ন , বি এম কলেজ, চৌমাথা, কাউনিয়া, সাগরদী মাকের্ট, বাংলা বাজার পুলিশ লাইন, হাসপাতাল রোড, কালি বাড়ি রোড, বগুড়া রোর্ড, পলাশপুর ঘুরে দেখা গেছে জমাকাপড় তৈরি নিয়ে দর্জিরা ব্যস্ত। এমনকী সময় মতো খাবারেরও সময় তারা পাচ্ছেন না। কেউ কাপড়ের মাপ নিচ্ছেন, কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ আবার সেলাই করছেন, কেউবা ইস্ত্রি করছেন, কেউ ভাজ করছেন, আবার কেউ অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা সাজিয়ে রাখছেন।
নগরীর কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা জাহানরা জানান, ঈদের সময় সবাই চায় নতুন পোশাক পরতে, আর রেডিমেড দোকানে একই নকশার অনেক পোশাক থাকে। তাই পছন্দ মতো কাপড় কিনে দর্জির দোকানে কাপড় বানাতে দেই।
পুলিশ লাইন এলাকার দর্জির দোকানে আসা কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা আনিসা নামের ক্রেতা জানান, থ্রি পিস বানাতে এসেছি। কারণ দর্জির দোকান থেকে কাপড় সেলাই করলে জামা ফিটিং সুন্দর হয়। কোনও সমস্যা হলে নিয়ে আসা যায়।
ঈদকে সামনে রেখে জামার কাপড় কিনতে আসা গৃহবধূ নাহার বেগম জানান, প্রতি বছর ঈদে আমি দর্জির দোকানের কাপড় কিনে জামা বানাই। কিন্তু এবছর জামার কাপড়ে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।
তবে দর্জি কারিগররা বলছে ঈদকে সামনে রেখে গত বছরের চেয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত প্রচুর অর্ডার বেশি। অর্ডার প্রতি তারা ২৫০-৩৫০ টাকা করে মজুরি নিচ্ছেন।
নগরীর কাট পট্টি মার্কেটে কয়েকটি দর্জি কারখানায় আলাপকালে দর্জি জসিম, শাহিন ,শাওন, হেলালসহ আরও অনেকে জানান, দর্জির দোকানে পুরুষের চেয়ে মহিলারাই বেশি আসছে।
কাউনিয়া এলাকার মায়ের দোয়া টেইলার্সের মালিক জসিম হোসেন জানান, ঈদের আগে আমিসহ আর একজন কাজ করতাম কিন্তু ঈদ উপলক্ষে এবার দোকানে মোট পাঁচ জন কাজ করছি। প্যান্ট শার্ট, থ্রি পিছ, জামার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাঞ্জাবি। সময় মতো কাজ শেষ করে কাস্টমারকে দিতে পারলেই আমরাও খুশি এবং তারাও খুশি হয়ে থাকে ।
দর্জিরা জানান, এবছর তরুণীদের পছন্দের পোশাক লং কামিজ, ক্যাটরিনা, চম্পাকলি, রাবেয়া, মালতী, মান্নেতা। হিন্দি সিরিয়ালের ধাঁচে বিভিন্ন স্টাইলের পোশাক বানানোর চল এবারও সমান জনপ্রিয়।
আরও পড়তে পারেন: আড়ালেই থেকে যাচ্ছে ‘ক্রসফায়ারে’র মূল গল্প
/এনএস/এমএনএইচ/








