প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও হযরত খানহাজান আলীর (রহ.) মাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয় বাগেরহাটের এসব এলাকায়। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী ২/৩ দিন এ তিনটি স্পটে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে বলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ ও ষাটগম্বুজে অবস্থিত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন সুন্দরবনে। এ সময় পর্যটকদের ভিড় সামলাতে বনরক্ষীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থীরা মাতিয়ে তোলে সুন্দরবন পর্যটন কেন্দ্র করমজলসহ সাগর উপকূল।
সুন্দরবনে রয়েছে ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৮টি উভচর প্রজাতির আবাসস্থল। এদের মধ্যে বাঘ, শুশুক, কচ্ছপ, গিরগিটি, অজগর, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, মহিষ, গণ্ডার, কুমির অন্যতম। সুন্দরবনের প্রধান বনজ বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, গরান এবং কেওড়া গাছ।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সুন্দরবনের করমজলসহ কয়েকটি পর্যটন স্পটে ঈদের আগের দিন থেকে পর্যটকের আগমন ঘটে। ঈদের দিন ও পরের দিন এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। মংলায় অবস্থিত পর্যটন করপোরেশনের মোটেলসহ সকল হোটেলে আসন বুকিং থাকে। বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধসহ পাস পারমিট নিয়ে দর্শনার্থীদের সুন্দরবনে বিচরণ করতে হয়। ঈদের পরে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সুন্দরবনে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা দুর্লভ বন্যপ্রাণী দেখতে ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে ছুটে আসেন পর্যটন স্পট করমজলে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মতিয়ার রহমান জানান, আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় ঈদের ছুটিতে গত বছরের তুলনায় এবার পর্যটকরা কম আসতে পারেন এ এলাকায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের হারবাড়িয়া ও করমজল এলাকায় পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
এছাড়া ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ ষাটগম্বুজ মসজিদেও ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমন ঘটে। এ স্পটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ভ্রমণে আসেন।
ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জাদুঘরে রাখা বহু বছর আগের পুরাকীর্তির নিদর্শন দেখে অনেকেই অবাক হন। ১৯৯৪ সালে ৫২০ বর্গমিটার এলাকায় এ জাদুঘর নির্মিত হয়। এটি ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাস্টডিয়ান গোলাম ফেরদৌস জানান, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে এখানে সারা বছরই অনেক মানুষ আসেন। তবে ঈদের দিন ও তার পরবর্তী কয়েকদিন পর্যটকদের আগমন বাড়ে।
এছাড়া হযরত খানজাহান আলী মাজারেও প্রতি বছর ঈদের সময় হাজার হাজার পর্যটক আসেন। মাজারের দীঘিতে মিঠা পানির কুমির ছুয়ে আনন্দ উপভোগ করের দর্শানার্থীরা। মাজার জিয়ারত, মাজারের সামনে দিঘির সিঁড়িতে স্বজনদের নিয়ে বসে আনন্দ উপভোগ করেন তারা।
খান জাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম শের আলী জানান, ঈদের সময় হাজার হাজার দর্শনার্থী মাজারে ভ্রমণে আসেন। তাদের সব ধরনের সুবিধা-অসুবিধা খাদেমরা দেখেন।
এছাড়াও বাগেরহাটের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকরা কমবেশি পরির্দশনে আসেন। এসব স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাপুরুষ হজরত খানজাহান আলী ( রহ.) এর সফরসঙ্গী জিন্দা পীরের মাজার, ঠান্ডা পীরের মাজার, নয় গুম্বুজ মসজিদ, দশ গুম্বুজ মসজিদ, সিংড়াই মসজিদ, রেজা খোদা মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ, অযোদ্ধার মঠ ইত্যাদি।
/এআর/এসএনএইচ/








