উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিতে বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোনও কোনও এলাকায় সহায়-সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে স্থানীয়রা। নদীতে প্রবল স্রোতে ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে ধুনটের বানিয়াজানের ৬০ মিটার বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।
কয়েকদিন আগে সেখানে ২৫ মিটার ব্লক ধসে গিয়েছে। এতে যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পসহ সরকারি-বেসরকারি লাখ লাখ টাকা মূল্যের স্থাপনা, বসতঘর ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। দুপুর পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনও কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। তারা ভাঙন ঠেকানোর কোনও চেষ্টাও করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে ২০০১ সালে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান এলাকায় দুটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। শহরাবাড়ি বাঁধটি কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে যায়। একমাত্র বানিয়াজান বাঁধটি টিকে থাকায় শিমুলবাড়ি, বানিয়াজান, কৈয়াগাড়ি, বরইতলী, ভাণ্ডারবাড়ি, ভুতবাড়ি ও পুকুরিয়াসহ কয়েকটি গ্রাম যমুনার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছিল। গত বছর দুই দফা বন্যায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বানিয়াজান বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ১১০ মিটার ব্লক ধসে যায়। সে সময় জরুরিভাবে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধটি যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষা করা হয়।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে বাঁধটি মেরামত না করে, এর দক্ষিণ থেকে ভাণ্ডারবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ওই প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পাথর, বালু, ও সিসি ব্লক বোঝাই শত শত ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করায় বাঁধটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এক মাস আগে মাহমুদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বাঁধের কাছে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উঠান। এসব কারণে বাঁধটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দফায় দফায় বাঁধ ধসে যাওয়ায় যমুনার তীরবর্তী ৮ গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী বাঁধটি রক্ষার দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে মেরামত করা না গেলে ভাটিতে নির্মাণাধীন ৬০ কোটি টাকার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পসহ ৮ গ্রাম এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার স্থাপনা ও আবাদি জমি যমুনা নদীতে বিলিন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে বগুড়া পানি উন্নয়ন বের্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুনর রশিদ বলেন, বানিয়াজান বাঁধের ধসে যাওয়া অংশে বালুর বস্তা ফেলে মেরামত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যমুনা নদীর পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বাঁধসহ তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছিল।
/জেবি/টিএন/
আপ - /এসএ/








