ঢাকার কল্যাণপুর অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির একজন মো. জোবায়ের হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম মাইজদী গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবদুল কাইয়ুম। সে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী ছিল বলে তার বাবা দাবি করেছেন।
মো. জোবায়ের হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম মাইজদী গ্রামে। আবদুল্লাহ মেম্বারের বাড়ি হিসেবেই তাদের বাড়ি পরিচিত। সে বোতলজাত বিশুদ্ধ পানি বিক্রেতা মো. আবদুল কাইয়ুম এর ছেলে। জোবায়ের ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে সবার বড়। সে নোয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তবে নিয়মিত ক্লাস করত না।
সারাদেশে সাম্প্রতিক নিখোঁজের তালিকায় নোয়াখালীর ছয় যুবকের নাম প্রকাশ করা হয়। সোমবার ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিস থেকে প্রকাশিত তালিকায় জোবায়েরের নামও ছিলো। সে র্যাবের তালিকাভুক্ত নিখোঁজের একজন।
নিহত ৯ জঙ্গীর ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর তার পিতা আবদুল কাইয়ুম জোবায়েরকে শনাক্ত করে আজ সকালে সুধারাম থানা পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করেন এবং ঢাকা থেকে পুত্রের লাশ আনার ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও জানান, তার ছেলে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী ছিল। ছেলেকে এ পথ থেকে সরানোর বহু চেষ্টা করেও সফল হননি বলে আক্ষেপও করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, জোবায়েরকে জঙ্গি হতে সক্রিয়ভাবে প্রলুব্ধ করেছে একই বাড়ির জামায়াতের রোকন মো. বাহাদুর। জোবায়ের জামায়াত পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আল্ ফারুক একাডেমী’তে পড়তো। তখন থেকে তার মধ্যে ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখে তাকে ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নোয়াখালী জিলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করান। এতেও ছেলেকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতি থেকে রক্ষা করা গেল না বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
জোবায়েরের বাবা জানান, গত ১০ রমজান থেকে তার ছেলে জুবায়ের নিখোঁজ ছিল। ছেলেকে না পেয়ে ঘটনায় গত ১২ জুলাই তিনি সুধারাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এদিকে, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ,কে,এম জহিরুল ইসলাম জানান, তাকে জঙ্গি সন্দেহে আটকের জন্য পুলিশ খুঁজছিল।
/বিটি/টিএন/








