বগুড়ার ধুনটে তিন বখাটের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করায় বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না নিমগাছী ইউনিয়নের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৫)। বখাটেরা জামিনে বের হয়ে এসে মামলা তুলে নিতে ওই ছাত্রীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীর লেখাপড়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। হুমকি পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর পরিবার সোমবার থানায় ফের অভিযোগ দিয়েছে।
তবে ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মেয়ের সমস্যা আছে। আসামিরা মীমাংসা না করায় সে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের ১ নম্বর সংরক্ষিত আসনের (১, ২, ৩ ওয়ার্ড) এক সদস্যর মেয়ে সরুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে নিমগাছী গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে রানা মিয়া (২৫), ফারুক হোসেনের ছেলে হাসান ফেরদৌস (২৩) ও তফিল উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া (২৫) তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ছাত্রীর পরিবার ঘটনাটি বখাটেদের পরিবারকে জানালে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বখাটেরা ওই ছাত্রীর ছবি কম্পিউটারে একটি অশ্লীল ছবির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে তা ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
এরপর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ছাত্রীর বাবা ওই তিন বখাটের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার হলেও পরে তারা জামিনে ছাড়া পায় । এরপর থেকে ওই বখাটেরা ছাত্রী ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। তাদের হুমকির মুখে ছাত্রী স্কুলে যেতে পারছে না; তার লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। নিরুপায় হয়ে তার পরিবার সোমবার বিকেলে ধুনট থানায় ফের অভিযোগ দায়ের করেছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ওই ছাত্রী ভালো নয়। অন্য একজনের সাথে তার অশ্লীল ছবি আছে। উল্লিখিত তিন আসামি এ ছবি দেখে ওই ছাত্রীকে বলেছিল। আর সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়।
তিনি বলেন, আসামিরা জামিনে ছাড়া পেয়েছে। আসামি পক্ষ মীমাংসায় রাজি না হওয়ায় সোমবার ছাত্রী ও তা মা থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করে গেছে। এরপরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এবি/








