জঙ্গিরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি উৎখাত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, যতদিন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য থাকবে, ততদিন সব গুপ্ত হত্যার জন্য খালেদা জিয়াও সন্দেহের তালিকায় থাকবেন। শুধু জামায়াতই নয়, বিএনপিও দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য হুমকি। শুক্রবার সকালে খুলনায় হোটেল সিটি ইন-এ অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ বেতার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবস্থান পরিষ্কার না করলে আমরা তাদের সন্ত্রাসের তালিকায় রাখব। তিনি বলেন, আগুন যুদ্ধে পরাজিতরাই সন্ত্রাসী-জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আমরা যেমন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের পক্ষ নিতে হবে, মাঝামাঝি থাকার কোনও সুযোগ নেই।
হাসানুল হক ইনু বলেন, জঙ্গিদের আক্রমণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত। সন্ত্রাসীরা কোনও ধর্ম, সংবিধান, দেশ, সংস্কৃতি, আইনকানুন মানে না। তারা আটশ বছরের বাংলার সংস্কৃতি, মানবতাবোধ, সম্প্রীতি ও বন্ধন ধবংস করতে চায়। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি অন্যায় যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা মুসলমানদের বিপদে ফেলছে, দেশকে বিপদে ফেলছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জঙ্গি দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আগুন সন্ত্রাসের পর পরাজিত শক্তিরা এখন কৌশল বদল করেছে। সেই রেশ ধরে চলছে জঙ্গি হামলা। গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। একাত্তরের যুদ্ধের সময় যারা মানুষ হত্যা করেছে, ১৫ আগস্টে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, জঙ্গিদের সঙ্গেও তারা জড়িত।
হাসানুল হক ইনু বলেন, জঙ্গিবাদ গুপ্তহত্যা হঠাৎ কয়েকজন খেয়ালি যুবকের কর্মকাণ্ড নয়, এটা পরিকল্পিত ঘটনা। এই জঙ্গিদের সঙ্গে একাত্তরের খুনিদের অদ্ভুত মিল আছে। তারা তাদের মনগড়া ব্যবস্থা বাংলাদেশের ওপর চাপাতে চায়। যারা জঙ্গিবাদের পক্ষে বিভ্রান্তি ছড়ায়, আমরা তাদের নজরে রেখেছি। জঙ্গিরা যে যুদ্ধ চালাচ্ছে, তা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। এই যুদ্ধ বাংলাদেশের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতিকে রক্ষার জন্য যুদ্ধ। এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্গলা বাহিনী ও জনগণ একসঙ্গে রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে জঙ্গি ও তাদের দোষররা।
সন্ত্রাস দমনের নামে বিরোধী দলকে দমন করা হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনও রাজনৈতিক দলকে দমন করছে না। সন্ত্রাসী ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে, তারা বিএনপি বা এর অঙ্গ সংগঠনের কোনও লোক নয়। জঙ্গি ছাড়া কোনও নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে না। জাতীয় ঐক্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জঙ্গি ও তাদের দোসরদের বাদ দিয়ে ইতোমধ্যে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ছাত্রশিক্ষক, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সবাই আজ ঐক্যবদ্ধ।
বাংলাদেশ বেতার-এর মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঁইয়া সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য খুলনা মহানগর ও জেলা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের (কুয়েট) ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান বিপিএম, খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা, জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হোসেন এবং টাউন জামে মসজিদের খতিব জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা মো. সালেহ।
উল্লেখ্য, ঢাকার বাইরে এটিই প্রথম সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ সব বেসরকারি রেডিও ও কমিউনিটি রেডিও অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে তথ্য মন্ত্রী জাসদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বেলা দুটায় বাংলাদেশ বেতার খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্র চত্বরে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পরিদর্শন করেন।
আরও পড়তে পারেন: থমকে গেছে ঢাকা-কলকাতা যাত্রীবাহী জাহাজ চালুর উদ্যোগ
/এমএনএইচ/








