তৃতীয় দিনের চেষ্টায়ও জামালপুরের চরাঞ্চল থেকে ভারতীয় দলছুট হাতিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য বাংলাদেশ বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক জানান, রবিবার সকাল থেকে হাতিটি মাদারগঞ্জ উপজেলার চর ভাটিয়ানি এলাকায় অবস্থান করছিল। চারদিকে পানি থাকায় এখনও হাতিটি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। চেষ্টা করেও হাতিটিকে ডাঙ্গায় আনা যায়নি।
হাতিটি ২৭ জুন বন্যার পানিতে ভেসে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর একমাসেরও বেশি সময় ধরে হাতিটি জামালপুর,কুড়িগ্রাম,সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
হাতিটি উদ্ধারে ৩ সদস্যের একটি ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশে আসে। ভারতীয় টিমের সদস্যরা হলেন আসাম রাজ্যের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ডক্টর রিতেশ ভট্টাচার্য,আসামের বন বিভাগের ভেটেনারি সার্জন ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কে কে শর্মা ও আসামের বন কর্মকর্তা সোলেমান উদ্দিন চৌধুরী।
এই বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে। এই টিমের প্রধান হলেন নেচার কনজারভেটিভ সোসাইটির প্রধান নির্বাহী পরিচালক ডক্টর তপন কুমার দে। ভারতীয় ও বাংলাদেশের যৌথ দল ৫ আগস্ট থেকে হাতিটিকে উদ্ধারে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা জামালপুরের সরিষাবাড়ি ও মাদারগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে হাতিটিকে অনুসরণ করছেন। কিন্ত এখন পর্যন্ত উদ্ধার করার মতো সুবিধাজনক স্থানে হাতিটিকে পাওয়া যায়নি। গত তিনদিন ধরে হাতিটি সরিষাবাড়ি উপজেলার ইজারাপাড়া,ফুলবাড়িয়া, পঞ্চপীর, সৈয়দপুর গ্রাম এলাকা ঘুরে মাদারগঞ্জের শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ি হয়ে এটি রবিবার দুপুরে মাদারগঞ্জের চর ভাটিয়ানিতে অবস্থান করছিল। এদিকে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ টিমের বাংলাদেশে অবস্থানের মেয়াদ পেরিয়ে যাবে ৯ আগস্ট মঙ্গলবার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টিমের প্রধান ডক্টর তপন কুমার দে-জানান, আমরা চেষ্টা করছি এই সময়ের মধ্যেই যাতে হাতিটি উদ্ধার করা যায়। যদি তা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ভারতীয় টিম ৯ আগস্ট ভারত চলে যাবে। আবার তারা সেদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আবারও বাংলদেশে আসবে। তবে আমাদের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
/জেবি/এসএনএইচ/








