হতাশা নিয়েই আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে খুলনার বৃক্ষমেলা। কারণ ২০১৪ সালে ৩৩ লাখ ও ২০১৫ সালে সাড়ে ৩৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র সোয়া ১৬ লাখ টাকা। প্রত্যাশা অনুযায়ী চারা বিক্রি না হওয়ার কারণে অংশ নেয়া নার্সারী মালিকরা হতাশ। হতাশ হয়েছেন আয়োজক বন বিভাগের কর্মকর্তরাও।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলার জন্য নতুন স্থান, স্বল্প পরিসর, নার্সারি মালিক সমিতির মেলা বর্জন ও প্রচার না হওয়ার কারণে চারা বিক্রিতে হতাশাজনক পরিস্থিতি।
সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সায়েদ আলী বলেন, মেলা ভেন্যু নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে নার্সারি মালিক সমিতির অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ফলে তারা মেলায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। কিছু নার্সারি মেলায় স্টল নিলেও প্রচার না হওয়ায় মেলায় দর্শনার্থী আকৃষ্ট হয়নি। প্রচার বাড়ানোর জন্য মেলাঙ্গণে মাইকিং, সাইকেল র্যালি, স্টিকার বিতরণ ও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
মেলায় অংশ নেওয়া সোহাগ নার্সারির মালিক মো. ফিরোজ জানান, এবারের মেলায় তার স্টলের আকর্ষণ ছিল ডায়বেটিস গাছের চারা ও ভিয়েতনামের নারকেল চারা। উন্নত জাতের এই দুটি গাছের চারা তেমন বিক্রি হয়নি। প্রচারণার অভাব ও মেলাঙ্গণ স্বল্প পরিসরের হওয়ার কারণে লোক সমাগম হয়নি। ফলে বেচা বিক্রিও হতাশাজনক।
এবারের মেলায় সোমবার রাত পর্যন্ত ২৩ হাজার ২৮টি চারা বিক্রি হয়। যার বাজার মূল্য ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৭ টাকা। গত ২৪ জুলাই ২৮টি নার্সারি দোকান মেলায় অংশ নেয়। মেলায় ৪৬টি স্টলের মধ্যে কৃষি অধিদফতরের ও বনগবেষণা কেন্দ্রের ১টি করে স্টল আছে।
মেলায় আসা পারভীন বেগম জানান, এ বছর মেলায় চারার দাম অনেক বেশি। তিনি একটি কামরাঙ্গা চারা কিনতে দরদাম করেছিলেন। প্রথমে দোকানদার ৬শ’ টাকা চায়। দরদাম করার পর ৪৫০ টাকার কমে বিক্রি করবেন না বলে জানান। তাই চারা না কিনে ফিরে যাচ্ছেন তিনি।
বনকন্যা নার্সারির মালিক মো. রাজা শেখ বলেন, এ বছর মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতিই বাড়েনি। ফলে প্রত্যাশিত চারা বিক্রির আশা করাটাতো কঠিন।
আজাদ নার্সারীর মালিক এ কে আজাদ জানান, বৃক্ষমেলায়ই মূলত গাছের চারা বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি এবার মেলায় ৩০ হাজার ভেষজ চারা এনেছিলাম। বিক্রিতে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। মেলায় পক্ষকাল অবস্থান নেওয়া, থাকা-খাওয়া, কর্মীর খরচ মিলিয়ে ক্ষতিগুনতে হচ্ছে তাকে।
/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন:
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পড়ে ‘মফিজ’ বনে গেলাম: এডিসি ছানোয়ার
ডার্কনেটে চলছে ‘রাহমানী-আওলাকি’র দাওয়াত!








