র
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০১৬ বাতিলের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হরতাল বলবৎ রাখা এবং হরতালে মদদ দেওয়ার অভিযোগে খাগড়াছড়ি পৌরসভা মেয়রের তীব্র সমালোচনা করলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
জাতীয় শোক দিবস-২০১৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি টাউন হলে আজ বৃহস্পতিবার জেলা যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন, তখন পাহাড়কে অশান্ত করতে, পাহাড়ের উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে কয়েকটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন সক্রিয় হয়ে উঠছে। আর এসব সংগঠনকে মদদ দিচ্ছেন খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম।
অধিকার আদায়ের জন্য হরতাল-অবরোধ করা যায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জনদুর্ভোগ বাড়ানোর আগে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন২০১৬-এ কি কি সংশোধনী হয়েছে পড়ে দেখুন। তারপর যদি দেখেন আইনটি জনস্বার্থবিরোধী, তখন আন্দোলন করুন। কিন্তু না জেনে, না বুঝে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলবেন না।
এসময় তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়ার সমালোচনা করে বলেন, ১৯৯৭ সালে যখন শান্তি চুক্তি হয়, তখন আপনারা লং মার্চ করেছিলেন। বলেছিলেন পাহাড়ে আর বাঙালিরা থাকতে পারবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অংশ হয়ে যাবে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রায় দুই যুগ পার হলো। কই, কিছুইতো হলো না। বরং আপনি উন্নয়ন বোর্ডের আইনের একটি ছোট ফাঁক পেয়ে নিজেই উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে বসলেন।
তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে, মিথ্যা রাজনীতি করে, নিজেই লাভবান হয়েছেন। এখন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও শান্তির রাজনীতিকে বাঁধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতি করছেন। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি ওয়াদুদ ভুইয়াকে আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরা।
এসময় জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কে, এম ইসমাইল, জেলা আওয়ামী লীগে সিনিয়রসহ-সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা, কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. শানে আলম ও আশুতোষ চাকমাসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
/এমএসএম/








