জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়ার এক বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর’স পদক’ প্রদান করলেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী। সোমবার জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষকসহ ৪ জনকে এ পদক দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘প্রতারণা’ বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এ ঘটনায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪০ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক নূর-উন নবী বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে গবেষণায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,প্রতি বছর এ বিষয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চারটি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। উপাচার্যের এ ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সকলের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
এদিকে উপাচার্য তার দেওয়া ঘোষণা এক বছরেই পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু পদকের পরিবর্তে ভাইস চ্যান্সেলর’স পদক প্রদান করলেন। সোমবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, অর্থ ও হিসাব দফতরের সহকারী পরিচালক হারুন তাজিফ জয়, বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী যীন্নাতুন্নেছা এবং সহকারী স্টোর কিপার শিরিনা আক্তারকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর’স অ্যাওয়ার্ড’ এবং নগদ অর্থ সম্মানী প্রদান করেন তিনি। জানা যায়,মাত্র ১০ দিনের নোটিশে বঙ্গবন্ধুর ওপর লেখা আহ্বান করে পদক প্রদান করা হলো।
এ ব্যাপারে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সচিব গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মশিউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু পদক দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলরের নামে পদক প্রদান শুধু বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা নয়,পুরো বাঙালি জাতির সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। এ জন্য অচিরেই আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান বলেন, উপাচার্য একজন মিথ্যাবাদী। নিজের স্বার্থের জন্য এমন কোনও কাজ নেই যা তিনি করতে পারেন না। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই শিক্ষক।
অপরদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, আজ শোকের দিন। শোকের নামে জাতির জনকের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে।উপাচার্যের চাকরির মেয়াদ আছে আর কয়েক মাস। মূলত উপাচার্য হিসেবে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের অপচেষ্টায় তিনি এ কাজ করেছেন।
অারও পড়তে পারেন: পাওয়া গেলো মারজানের পরিচয়
/এমএসএম/








