বঙ্গোপসাগরে কক্সবাজারের ৫টি ফিশিং বোটসহ ৫০ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ।।
তিনি জানান নিখোঁজ হওয়া সাবই দুইদিন আগে মাছ ধরতে সাগরে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে। এ সময় ৫টি ফিশিং বোট ডুবে যায়। এ সময় এক জেলের মরদেহ ও ১২ মাঝিমাল্লাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে ‘এফ বি রাহি’ নামে একটি ফিশিংবোট। এই বোটে থাকা ১৬ জন নিখোঁজ মাঝি মাল্লার মধ্যে ১২ জন অন্য বোটে করে কূলে ফিরলেও মু. এরশাদ, নুরুল আলম ও মু. কেফাজ উল্লাহ, মিজান মাঝি, মু. হানিফ, শাহেদ খান, বাদশা, জসিম ও ইয়াকুবসহ নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ জন জেলে। এ কারণে বোটের মালিক ও মাঝিমাল্লাদের পরিবারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এফ.বি রাহির মালিক আবু তাহের জানান, তিনদিন আগে তার বোট নিয়ে ১৬ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল। মাঝ সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে তার বোটটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। ওই বোটে থাকা তিনজন মাঝিমাল্লার এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
অন্য এক বোট মালিক শফি আলম বাশি জানান, জীবন-জীবিকার তাগিদে মাঝিমাল্লারা সাগরে মাছ ধরতে যায়। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে ট্রলার ডুবি ও মাঝিমাল্লা হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রকৃতির নিয়মে এসব ঘটনা ঘটলেও সহজে মেনে নিতে পারছেননা ক্ষতিস্থরা।
সূত্র মতে, গত বুধবার দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরের নাজিরারটেক পয়েন্টের অদূরে জোয়ারের ধাক্কায় ফিশিংবোট ডুবে ওমর ফারুক (৪০) নামে এক জেলে নিহত হন। তিনি কক্সবাজার সদরের রশিদনগর ইউনিয়নের গোলাজি পাড়া এলাকার নসরত আলীর ছেলে এবং দুর্ঘটনা কবলিত ফিশিং বোটের মেশিনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিল।
জীবিত উদ্ধার আবুল ফজল নামে এক জেলে জানান, বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় একযোগে ১২টি ফিশিং ট্রলার কূলে ফেরার পথে জোয়ারের ধাক্কায় প্রথমে থাকা ‘ভাই ভাই’ ফিশিং ট্রলারটি সাগরে ডুবে যায়। ওই ট্রলারে ছিল ১৩ জন মাঝিমাল্লা। পরে তাৎক্ষণিক পেছনের ট্রলার গুলোর মাঝিমাল্লারা এগিয়ে এসে ১২ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। ওই সময় নিহত ফারুক মেশিনঘরে থাকায় সেখানে আটকে পড়ে। এ কারণে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে কূলে ভিড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার জেলা ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ আরও জানান, অনুকূল আবহাওয়ায় আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মাঝি-মাল্লারা সাগরে যায়। ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে সাগরে নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ মৎস্যজীবী পরিবারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন।
/এসএনএইচ/








