বৃষ্টির মৌসুমে যশোরের বিল হরিণায় মাছ ধরার ধুম পড়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মুক্তেশ্বরী নদীসহ যশোরের বিভিন্ন এলাকার ঘের, পুকুর ভেসে যাওয়ায় বিল হরিণায় মাছ বেড়েছে।
শহরের চাঁচড়া, ভাতুড়িয়া, কালার মাঠ, সাড়াপোল, নারায়ণপুর, সতীঘাটা, বলাডাঙ্গা, খরিচাডাঙ্গা প্রভৃতি এলাকার নারী-পুরুষ-শিশু সকলেই তাদের নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন উপায়ে মাছ ধরছেন। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।
যশোর সদরের ভাতুড়িয়া এলাকার যুবক আতাউরের ভাতুড়িয়া বাজারে মুদি দোকান থাকলেও সপ্তাহখানেক তিনি সেটি বন্ধ রেখেছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিল হরিণায় জাল ফেললেই মাছ উঠছে। প্রতিদিন প্রায় ১০/১২ কেজি মাছ ধরছেন তিনি। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাছ বিক্রিও করছেন। তাই মাছ ধরে আয় রোজগারও খারাপ না।
সাড়াপোল এলাকার রহিম জানান, তার ফ্রিজে আর জায়গা নেই আর। এখন মাছ ধরে আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বিলি করছেন। প্রতিদিন তার জালে ধরা পড়ছে রুই, মৃগেল, জাপানি রুই, গ্রাস কার্প জাতীয় মাছ। যার ওজন সর্বনিম্ন আধা কেজি।
খড়কী এলাকা থেকে বিল হরিণায় মাছ ধরতে এসেছেন দর্জি শুকুর আলী। ছুটির দিনে এসেছেন বড়ঁশি দিয়ে মাছ ধরতে। যা পেয়েছেন, খারাপ না।
বিল হরিণার মাঝে উঁচু জায়গায় আছে, সেখানে কেউ ছিপ কেউবা জাল ফেলে মাছ ধরছেন। কলাগাছের ভেলা, টিউব, ডোঙা ব্যবহার কিংবা পানির ওপর মাঁচা তৈরি করে মাছ ধরছেন অনেকে। আর রাস্তার দুই ধারে লাইন ধরে বসে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত শৌখিন মাছ শিকারীরা।
মাছ শিকারীরা জানান, অনেকে সারারাত ধরে মাছ শিকার করছেন। কেউ কেউ সকালে এসে বিকেল পর্যন্ত থাকছেন। এখানে বসেই খাচ্ছেন দুপুরের খাবার। বড় মাছের পাশাপাশি টেংরা, পুঁটি, কৈ, শিং,বাইন, মাগুর মাছও পাচ্ছেন তারা।
মাছশিকারী এড়েন্দার ইব্রাহিম জানান, এখন বড় বড় মাছ বেশি উঠছে। কিন্তু পানি যতো টান ধরবে, দেশি মাছ ততো বেশি পাওয়া যাবে।
/এসএনএইচ/








