টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত ছয়টি উপজেলায় কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়নে ৩৯ হাজার ৭শ ছয়টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারিভাবে নগদ অর্থসহ চাল বিতরণ অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত চাহিদা নিরূপণ করতে পারেনি প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত এলাকায় কোনও ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নেই। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় সম্ভব হয়নি। ফলে, বন্যামুক্ত হওয়ার পর ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, চলতি বন্যায় টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে ছয়টি উপজেলাকে বন্যাকবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে। দুর্গত এলাকার জন্য ১১০ মেট্রিক টন চাল ও সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সাত হাজার ৮৫০টি পরিবার, ভূঞাপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১২ হাজার ১৯২টি পরিবার, গোপালপুর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের সাত হাজার ৫০০টি পরিবার, নাগরপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১১ হাজার ৮০০টি পরিবার, দেলদুয়ার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের দুইশটি পরিবার, কালিহাতী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ১৬৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উল্লিখিত ত্রাণ-সামগ্রী দিয়ে দুর্গত মানুষের দুর্দশা কতটুকু লাঘব হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এছাড়া বাসাইল ও ধনবাড়ী উপজেলাকে বন্যাকবলিত চিহ্নিত করা হলেও কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়নি।
এসব এলাকায় কৃষি ক্ষেত্রে মোট নয় হাজার ৫৯৯ হেক্টর শস্য, ফলদ ও সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ৮২০ হেক্টর বোনা আমন, এক হাজার ৮০৭ হেক্টর রোপা আমন ও ৪৫১ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ১১২ হেক্টর পাট, এক হাজার ৩৫৯ হেক্টর আউশ, ৬২৯ হেক্টর সবজি, ১০১ হেক্টর কলাবাগান এবং ৩২০ হেক্টর লেবুবাগান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্গত এলাকা এখনও পানির নিচে থাকায় সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়নি এবং কোন ধরনের প্রাণহানি হয়নি বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, প্রাপ্ত ত্রাণ দুর্গত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা থাকলে সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাদের চাহিদা নিরূপণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবি
আরও পড়ুন
রংপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: পুলিশের ৩ সদস্যের কমিটি
রেজার ভুয়া সনদে এখনও পুলিশে আছে ৩৩ জন








