‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যে মর্যাদা দিয়েছে, অন্য কোনও সরকার তা দেয়নি। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিমাসে দশ হাজার টাকা ভাতা এবং অস্বচ্ছলদের বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কোনও চাওয়া নেই, এখন মরেও শান্তি পাবো,’ এমনটাই বললেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ছাতনী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী।
মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বীর নিবাস নামে একটি বাড়ি উপহার দিয়েছেন। বাড়ি পাওয়ার পর শনিবার বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদকের কাছে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আনছার আলী তার দুই ছেলে, ছেলে বউ, নাতি, নাতনি নিয়ে উপহার পাওয়া বাড়িটিতে উঠেছেন। আর ২০ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান।
আনছার আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই। এরপর অনেক সরকার এলেও, আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করেনি। প্রথম ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যা করেছে, পরে কোনও সরকার তা করেনি। পরে আবার ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনা সুদে ২ লাখ টাকা ঋণের ব্যাবস্থা করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যা করেছেন, তা ভোলার নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছুই করেনি। বরং স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করেছে।’
আনসার আলী জানান, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে তিনিসহ গ্রামের কয়েকজন যুবক স্থানীয় হিলির আমবাগানে ও পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে দুই দফায় মুজাহিদ বাহিনীর দেওয়া ট্রেনিং নেন। পরে পার্বতীপুরের আমড়ায় কিছুদিন প্রশিক্ষণ নেন। সেখান থেকে পলাশবাড়িতে এনে মুজাহিদ বাহিনী তাদের দিয়ে বাংকার খোঁড়ানোর পর বিদায় দেয়। ২৫ শে মার্চের পর মকবুল মল্লিক ও কুদ্দুস মুন্সির নেতৃত্বে পার্বতীপুরের হাবরাতে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরে ভারতের কামারপাড়াতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে লে. কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিরামপুর, ঘোড়াঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, ব্রিজ কালভার্ট উড়িয়ে দেওয়াসহ মাইন বিস্ফোরণ ঘটাতেন তারা। পরে দেশ স্বাধীন হলে দিনাজপুর মাঠে অস্ত্র জমা দেন। সেখানেই তাদের ডেকে নিয়ে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি সেনাবাহিনীতে ল্যান্স করপোরাল হিসেবে চাকরি শেষে অবসর নেন।
হাকিমপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের পুর্নবাসনের জন্য তিন হাজার গৃহনির্মাণ প্রকল্পের অধীনে হাকিমপুর উপজেলার দু’জন মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আনছার আলী অস্বচ্ছল ও অসুস্থ হওয়ায় তার নাম পাঠানো হয়। এ মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা প্রকৌশল অফিসের বাস্তবায়ণে মোট ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ শতক জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
লিয়াকত আলী জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বাড়ি চাবি আনসার আলীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে উপজেলার খট্টামাধবপাড়া গ্রামের দবীর উদ্দিনকেও বাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছিল।
/এসএনএইচ/এইচকে/
আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলীকে বাড়ি উপহার প্রধানমন্ত্রীর








