যশোর অঞ্চলের মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। যশোর, মাগুরা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে ৮৫ সদস্যের একটি বিশাল দল। এর মধ্যে ১২ জনকে আটক এবং চুরি যাওয়া ২৩টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে যশোর শহরে মোটরসাইকেল চুরির হিড়িক পড়ে যায়। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে ভাবিয়ে তোলে। আগস্টের প্রথমদিন থেকেই শুরু করা হয় ক্রাশ প্রোগ্রাম। যার প্রেক্ষিতে পুলিশ বৃহত্তর যশোর ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সক্রিয় ৮৫ সদস্যকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে যশোরের নিউমার্কেট এলাকায় খাবারের হোটেলের সামনে থেকে আটক করা হয় এক মোটরসাইকেল চোরকে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাগুরা সদরের ভায়না দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি গুদামঘর থেকে ১৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে যশোর, মাগুরা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৯টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের ধারণা ছিল মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে ৪-৫ জনের একটি ছিঁচকে চোরের দল ছিল। কিন্তু তদন্তে নেমে দেখা যায় এই কাজে জড়িত রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
এই সিন্ডিকেট কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ-পদবীধারী কোনও রাজনীতিক না থাকলেও ‘অমুক ভাইয়ের লোক’ হিসেবে রয়েছে অনেকেই। এরা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও বদলায়।
কোতোয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের ৮৫ জনের মধ্যে বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ৩৫ জন। বর্তমানে আটক রয়েছে ১২ জন।
আটক ১২ জন হচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশিপুর এলাকার মোহাম্মদ আলী (৩২), একই এলাকার শেখ ইকবাল হোসেন লাল্টু (৩৪), চণ্ডীপুর এলাকার খলিল গাজী (৩৬), যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া নজরুল ইসলাম (৩৩), নারায়ণপুর এলাকার রাজিব (২৮), সাতক্ষীরার বাবুলিয়া এলাকার কামরুল ইসলাম (২৮), মাগুরা জেলার মোল্যাপাড়ার বাচ্চু মোল্যা (৩৬), ঘোড়ামারা মধ্যপাড়ার সবুজ মোল্যা (২৭) প্রমুখ।
/ এমএসএম/








