স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের সই জাল করে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ১৭ জন স্টাফ নার্সকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালের দুইজন রয়েছেন। তারা হলেন- ফয়জুননেছা ও আঞ্জুয়ারা পারভীন। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর ৩ (বি) ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা ও নার্সিং) সুভাস চন্দ্র সাহা গত ১৪ আগস্ট এই ১৭ জন স্টাফ নার্সকে আসামি করে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ফলে সেবা পরিদফতর তাদের বরখাস্ত করে।
তালিকায় থাকা যশোর জেনারেল হাসপাতালের দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সের বরখাস্তের আদেশ গত বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে আসে। যার স্মারক নম্বর- ডিএনএস/শা-১/১আ-১০১/২০০৩/৫৯৩৭/১(৭)।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. শ্যামলকৃষ্ণ সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে দুই স্টাফ নার্সকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র স্টাফ নার্স ফয়জুননেছা পদোন্নতি নিয়ে যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি হতে এবং এমএসসি স্বল্পমেয়াদী কোর্সে অধ্যয়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফজলুল করিম সেলিমের সই জাল করেন। একইভাবে স্টাফ নার্স আঞ্জুয়ারা বিএসসি স্বল্পমেয়াদী কোর্সে অধ্যয়নের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সই জাল করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সেবা পরিদফতর এবং নিজ দফতরে দরখাস্ত জমা দেন।
জালিয়াতির বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নজরে আসলে অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা ও নার্সিং) সুভাস চন্দ্র সাহা গত ১৪ আগস্ট অভিযুক্ত ১৭ জন স্টাফ নার্সকে আসামি করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এজাহারের কপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর সেবা পরিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাছিমা পারভীন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ১৭ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৭ জন স্টাফ নার্সকে বরখাস্ত করে আদেশটি দ্রুত কার্যকর করতে জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠান।
স্টাফ নার্স ফয়জুননেছা ও আঞ্জুয়ারা পারভীন তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘শিক্ষা অর্জনের জন্য মন্ত্রণালয়সহ সেবা পরিদফতরে আবেদন করা হলেও টাকা ছাড়া কোনও কাজ হয় না। সেখানের একটি অসাধু সিন্ডিকেট মন্ত্রী, এমপি, সচিবদের সুপারিশ জাল করেন। এই জালিয়াতির সঙ্গে নার্সরা জড়িত নন।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের দুইজন ছাড়াও অন্য যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ৯ জন, ওই অঞ্চলের বক্ষব্যাধি হাসপাতালের একজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের একজন, চাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা, এবং পাবনা নার্সিং ইনস্টিটিউটের একজন করে স্টাফ নার্স রয়েছেন। বদলি, পদোন্নতি, প্রেষণ, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা ব্যাপারে তারা মন্ত্রী, কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতার সই জাল করেছেন বলে অভিযোগ।
সেবা পরিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাছিমা পারভীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও মামলার কপি পাওয়ার পর ১৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী সংক্রান্ত হওয়ায় পরে মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে হস্তান্তর করা হবে।’
/এসএনএইচ/








