লালমনিরহাটে একশ শয্যর সদর হাসপাতালের ইউজার ফির ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সিভিল অডিট টিমের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে এ ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত হাসপাতালেন জরুরি বিভাগ ও বহিঃবিভাগে আসা রোগীদের টিকিট ফি, প্যাথলজি, এক্স-রে, ইসিজি ফি, রোগী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ও রোগীদের থাকার কেবিন ভাড়া বাবদ ১৯ লাখ ৮৯ হাজার ১শ’ টাকা সংগ্রহ হয়। যা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার দায়িত্ব পান অফিস সরহকারী কাম হিসাব রক্ষক মাহবুব আলম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, ট্রেজারিতে সোনালী ব্যাংকের লালমনিরহাট শাখায় ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে মাত্র ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫৫ টাকা জমা করা হয়। বাকি ১৪ লাখ ৯ হাজার ১৪৫ টাকা ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ট্রেজারি চালান কপি তৈরি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনুসন্ধান ও কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।’
হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. নুরুজ্জামান আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইউজার ফি আত্মসাতের ঘটনাটি আমার যোগদানের আগে ঘটেছিল। ঢাকা ও স্থানীয় তদন্ত টিমের তদন্ত প্রতিবেদন ১৬ আগস্ট হাতে পেয়েছি। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী অর্থ আত্মসাতাকারী মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহবুব আলম বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। অডিট আপত্তি হওয়ায় পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট হিসাব নম্বরে টাকা জমা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
এদিকে সোনালী ব্যাংক লালমনিরহাট শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল বারেক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংকের বাইরের কোনও ঘটনায় আমার বলার কিছু নেই। এখন থেকে হাসপাতালের ইউজার ফি জমার ক্ষেত্রে ট্রেজারি চালান ও সিল স্বাক্ষর সঠিক আছে কি না এবং টাকা জমা হয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখতে পারে।’
/এসএনএইচ/








