নরসিংদীতে চিত্তরঞ্জন আর্য্য (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলার রগুনাথপুর চৈতাব এলাকায় তার নিজ মুদি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আহত চিত্তরঞ্জন রগুনাথপুর এলাকার চাঁন মোহন আর্যে্যর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রগুনাথপুর গ্রামের শ্রী শ্রী কালি মন্দিরের নিকটে চিত্তরঞ্জনের বাড়ি। আর বাড়ির সামনেই তার দোকান। মঙ্গলবার রাতে একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন মুখোশধারীসহ তিন জন তার দোকানের সামনে আসে। এসময় কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখোশ পরিহিত দুজন তাদের হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে চিত্তরঞ্জনকে কুপিয়ে আহত করে। চিৎকারের শব্দ পেয়ে বাড়ি থেকে চিত্তরঞ্জনের স্ত্রী ও অপর এক নারী ঘটনাস্থলে আসেন। তারাও চিৎকার শুরু করেন। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে দুর্বৃত্তরা হামলায় ব্যবহৃত চাপাতি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন চিত্তরঞ্জনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাঁচদোনা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ নিয়ে চিত্তিরঞ্জনের সঙ্গে একই এলাকার কতিপয় লোকের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ নিয়ে চিত্তরঞ্জনকে হুমকি দিয়ে আসছিল প্রতিপক্ষ। এ ঘটনাটি মাথায় রেখে পাশাপাশি অন্য কেউ সুযোগ নিয়ে হামলা করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তদন্তের পর মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে চিত্তরঞ্জনের মাথা, ঘাড়, হাত ও পেটে কুপিয়ে জখম করেছে। এদিকে মুদি দোকানি চিত্তরঞ্জনকে কেউ কেউ মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক, সেবায়েত বলে অপপ্রচার করে উত্তেজনা তৈরির করা চেষ্টা করছেন। যা দুঃখজনক।’
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ (ডিএসবি) সুপার শফিউর রহমান বলেন, উদ্ধারকৃত চাপাতিটি কসাইদের ব্যবহৃত সাধারণ চাপাতির মতোই মনে হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এরই মধ্যে সন্দেহজনক দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এপিএইচ/
আরও পড়ুন:








