বগুড়ায় আবদুল জোব্বার (৫৫) নামে এক নৈশ প্রহরিকে হত্যা করে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা সিসি ক্যামেরা ও মনিটর ভেঙে ১০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
শুক্রবার গভীর রাতে কাহালু উপজেলার মুরইলের পোড়াপাড়া এলাকায় এ রহমান মেটাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে এই ডাকাতির ঘটনায় শনিবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। উদ্বোধনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় এ খুন ও ডাকাতির ঘটনায় মালিক হতাশ হয়ে পড়েছেন।
বগুড়ার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রহিম বগ্রা জানান, তার ছোট ভাই আবদুর রহমান কাহালুর পোড়াপাড়া এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ গড়ে তোলেন। গত ১২ আগস্ট এটি উদ্বোধন করা হয়। এখানে পাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারি পার্টস তৈরি হয়।
পুলিশ জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে ৭-৮ জনের একদল ডাকাত প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ওয়ার্কশপে ঢোকে। বাধা পেয়ে তারা নৈশ প্রহরি কাহালুর ভাটদুবড়া গ্রামের মৃত জোবেদ আলীর ছেলে আবদুল জোব্বারকে মাথায় আঘাতে হত্যা করে। অপর নৈশ প্রহরি মুরইল মিয়াপাড়ার মৃত রওশন আলীর ছেলে আবদুল মান্নানকে (৫৫) হাত-পা ও মুখ বেঁধে মারপিট করে। তাকে মৃত ভেবে ডাকাতরা তালা ভেঙে ওয়ার্কশপে ঢোকে। পরে তারা সাতটি লেদ মেশিনের মোটর, জেনারেটরের একটি ব্যাটারি, একটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি ড্রিল মেশিনের মোটর, দু’টি সাবমারসিবল পাম্পের মোটর, বিপুলসংখ্যক টুলস, ব্যাংকের কয়েকটি চেকবই এবং অত্যাধুনিক মেশিনপত্র তৈরির ডায়াগ্রাম লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা ওয়ার্কশপে লাগানো সিসি ক্যামেরা ও মনিটর ভেঙে সব মালামালের সঙ্গে ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।
সাংবাদিক আবদুর রহিম বগ্রা দাবি করেন, তাদের ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহত নৈশ প্রহরি আবদুল মান্নানকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, ডাকাতরা এক নৈশ প্রহরিকে মাথায় আঘাত করে হত্যা ও অপরজনকে মারপিট করে ফেলে রেখে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।
শনিবার বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত মালিক আবদুর রহমান কাহালু থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল জলিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
/এমএসএম/








