নৌযান ধর্মঘটের কারণে মংলা বন্দরে পাঁচ দিনে ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মংলা বন্দরে আসা জাহাজগুলোতে আটকে রয়েছে লাখ-লাখ মেট্রিক টন আমদানি পণ্য। মংলা বন্দর চ্যানেলে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় অলস পড়ে থাকা এসব জাহাজকে প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার গচ্চা দিতে হচ্ছে। মংলা বন্দরে পণ্য খালাস কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নুরু অ্যান্ড সন্স এর সত্তাধিকারী এইচ এম দুলাল এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া নৌযান শ্রমিকরা মংলাসহ বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন নদীতে নোঙর করে রেখেছে শত-শত কার্গো, কোস্টার, বার্জসহ লাইটারেজ জাহাজ। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মংলা বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। মংলা বন্দরে অবস্থানরত জাহাজ হতে পণ্য খালাস করতে না পারায় ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বন্দরের শিল্প-কলকারখানাগুলোতে।
অপর দিকে নৌযান ধর্মঘটে পঞ্চম দিনেও মংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত পাথর ও পাইলিং শিট খালাস করা যায়নি। পদ্মা সেতু নির্মাণের মালামালসহ গম, সার, ক্লিংকার ও মেশিনারিজসহ ১১টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের মংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম মাস্টার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌ ধর্মঘট চলছে। যতক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধিসহ দাবি বাস্তবায়ন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। ছোট বড় ২ শতাধিক কার্গো জাহাজ বিভিন্ন স্থানে নোঙর করা রয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (ট্রফিক) মোহাম্মদ সোহাগ জানান, নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘটে পঞ্চম দিনেও মংলা বন্দরে অবস্থানরত গম, সার, ক্লিংকার, পাথর, মেশিনারিজসহ ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে মংলা বন্দরে জাহাজ জট বাড়ার পাশাপাশি বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও আমদানিকারকরা।
এপিএইচ/
আরও পড়ুন:







