নিজস্ব স্থাপনা, সীমানা প্রচীর, আবাসন সমস্যাসহ নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলছে কুষ্টিয়ার ৩৫ পুলিশ ক্যাম্প। এ ছাড়াও লোকবল ও যানবাহন সংকটের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ক্যাম্পগুলো দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কিছুটা বেগ পেতে হয়। বিশেষ করে পুলিশ ভ্যান না থাকায় আকস্মিক ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে না পুলিশ। ফলে অপরাধীরাও থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ৭ থানায় সব মিলিয়ে ৩৫টি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ফাঁড়ি ও একটি তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। প্রত্যেক পুলিশ ক্যাম্পের জন্য একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং ২২ জন কনস্টেবল থাকার নিয়ম থাকলেও বেশির ভাগ ক্যাম্পে তা নেই। বেশির ভাগ ক্যাম্প আনসার সদস্য ও এএসআই দিয়েই চলছে।
সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আব্দালপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আতিকুর রহমান আতিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘নিরাপত্তা জোরদার করতে ক্যাম্পের ২৪ ঘণ্টা কড়া পাহারা থাকছে এবং প্রতিটি গ্রামে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রধান সড়ক ও হাট বাজারে চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশী করা হচ্ছে। বাইরের কেউ এলাকায় প্রবেশ করলে তার নাম-ঠিকানা রাখা হচ্ছে। ’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর উপজেলার দুটি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্যাম্পে টহলের জন্য কোনও যানবাহন নেই। অবৈধ নসিমন করিমনই তাদের ভরসা। তাও সব সময় পাওয়া যায় না। এছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য না থাকায় আনসার দিয়ে কাজ চালাতে হয়। একজন মোটরসাইকেলে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় টহল দিলেও এতে তাদের জীবনের ঝুঁকি থেকে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ক্যাম্পের সিমানা পিলার না থাকায় পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত। তবে বর্তমানে এসব ক্যাম্পের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি ক্যাম্পকে অ্যালার্ট রাখতে সীমানা পিলার থাকা খুবই প্রয়োজন।’
জানা গেছে, স্থানীয় আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের বর্তমান সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৫ জন। যার মধ্যে ছুটিতে থাকে ২/৩ জন। ফলে ১২/১৩ জন সদস্য দিয়েই চলছে পুলিশ ক্যাম্পটি। বাইরে টহলে গেলে ক্যাম্পের হাতে গোনা কয়েকজন সদস্য দায়িত্বে থাকেন। যানবাহন না থাকায় টহল দেওয়া সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া শহরের হাউজিং পুলিশ ক্যাম্পে বর্তমানে ১৬ জন সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনই আনসার সদস্য।
কুমারখালী উপজেলায় ৭টি ক্যাম্পের মধ্যে ৫টিতে নিজস্ব স্থাপনা থাকলেও কয়া ও মাহেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্প পরিচালিত হয় ইউপি ভবন ও পুরাতন হাইস্কুল ভবনে। এ দুটি ক্যাম্পে কোনও সীমানা প্রচীরও নেই।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ওপরের নির্দেশে অনুযায়ী ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগে নিজেরা সুরক্ষিত থেকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছ। আর দুটি ক্যাম্পে নিজস্ব ভবন নেই। ভবন হলে সেবা দেওয়া আরও সহজ হবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম শাহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দৌলতপুর থানার অধীনে ৮টি পুলিশ ক্যাম্পের মধ্যে ৩টি ক্যাম্প অরক্ষিত। খলিশাকুন্ডি, তেকালা ও মথুরাপুর ক্যাম্পের নিজস্ব কোনও ভবন নেই। অন্যের ভবন ব্যবহার করে ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব ভবন ও সীমানা প্রাচীর হলে সদস্যরা শতভাগ নিরাপদ বোধ করত। দ্রুত এসব ক্যাম্পের নিজস্ব স্থাপনা হওয়া প্রয়োজন।’
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার (এসপি) প্রলয় চিসিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি ক্যাম্পকে সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব পুলিশ ক্যাম্পের নিজস্ব ভবন ও সীমানা প্রচীর নেই সেগুলো যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয় হয় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বড় কোনও সমস্যা নেই। এছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে পুলিশ।’
/এসএনএইচ/








