ট্রলারে পারাপার, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সাইফুল ইসলাম স্বপন, লক্ষ্মীপুর
০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:০৪আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:১৪

মজুচৌধুরীহাট -ভোলা নৌরুটে ট্রলারে চলাচল করছেন যাত্রীরা 2222 পর্যাপ্ত সি-ট্রাক ও ফেরি না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট- ভোলা নৌরুটে মাছ ধরার ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। এতে যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ রুটে আরও চার-পাঁচটি সি-ট্রাক ও ফেরি দরকার বলে জানান যাত্রীরা।
নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার মেঘনাকে ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সময় এখানে ছোট ছোট এমএল ধরনের লঞ্চ ও মাছ ধরার ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীরহাট-ভোলা নৌরুটে মাছ ধরার ট্রলারে নদী পার হন যাত্রীরা।
রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই নৌরুট। মেঘনায় ছোট ছোট মাছ ধরার ট্রলারে অবাধে যাত্রী বহন করার কারণে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে নৌরুটটি। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ছোট ছোট মাছ ধরার ট্রলার অবৈধভাবে এ রুটে চলাচল করছে। আর সেই সব ট্রলারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো যাত্রী প্রতিদিন ট্রলারে চড়ে লক্ষ্মীপুর হয়ে ভোলা ও বরিশাল যেতে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। এ পথে প্রতি বছর দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রতিরোধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন দু’টি সি-ট্রাকসহ দু’টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করছে। কিন্তু সি-ট্রাক ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রয়োজনের তাগিদে বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। আর এতে করে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ১৬ আগস্ট রাতে কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরনগর এলাকায় নৌকা ডুবে দুই সহোদর নিখোঁজ হন। এর মধ্যে বড় ভাই মাছুমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান মিলেনি হাসান মাহমুদের।
মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটের লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাত-আটটি ছোট ছোট মাছ ধরার কাঠের ট্রলার ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ওই সব ট্রলার যাত্রী নিয়ে মজুচৌধুরীরহাট থেকে ছুটছে ভোলা ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে। পাড়ি দিচ্ছে উত্তাল মেঘনা। সি-ট্রাক খিজির-৫ এ উঠার জন্য যাত্রীদের ডাকাডাকি করা হচ্ছে। ট্রলার মালিক তৌহিদ জানান, যাত্রীপ্রতি দুইশ' টাকা করে ভাড়া নিয়ে ভোলার উদ্দেশে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন তারা। প্রতি ট্রলারে ৪০-৫০ জন করে যাত্রী বহন করছেন। ট্রলার মালিক ও ঘাট ইজারাদার আলমগীর প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ কাজ করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান, প্রশাসনকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই প্রভাবশালী ঘাট ইজারাদার আলমগীর মাছ ধরার ট্রলারে করে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঈদের পর চার-পাঁচদিন পর্যন্ত কোস্টগার্ড সদস্যরা এ ঘাটে তদারকি করলেও এখন আর তাদেরকে দেখা যাচ্ছে না।

মজুচৌধুরীরহাট ইজারাদার আলমগীর জানান, তার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। তবে তিনি ভোলাগামী যাত্রীদের মাছ ধরার ট্রলারে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন এবং নৌকাপ্রতি খাজনা বাবদ একশ' টাকা গ্রহণ করছেন।

লক্ষ্মীপুরে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিসির সহ-ব্যবস্থাপক মেরিন সাইদুর রহমান জানান, এ জোনে ছোট ছোট এমএল সাইজের সব ধরনের লঞ্চ ও মাছ ধরার ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভোলা ইলিশাঘাট ভাঙনের কারণে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ভোলার ইলিশার পরিবর্তে বেডুরিয়া ঘাটে চলাচল করছে মাত্র দুটি ফেরি। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ইজারাদার আলমগীর।

এমএসএম/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম