সাতক্ষীরা কপোতাক্ষ তীরের রাঢ়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পানিতে ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দুই ধারে বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আর স্কুল মাঠের পানিতে পাটজাগ দিয়েছেন কৃষকরা। পাটখড়ি বাছাইও চলছে। তিনটি ভবনের একটি পরিত্যক্ত। প্রায় একমাস আগের টানা বৃষ্টিতে চার ফুট পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয়টি।
তিন মাস পরেই বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ায় প্রচণ্ড গরম ও রোদে বসে, আবার কখনো হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আগামী বছর নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে সব সমস্যা সমাধান হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল প্রাঙ্গণ জুড়ে পচা পানি। তার মধ্যে ঘুরছে সাপ। মাঝে মাঝে ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাং ডাক শোনা যায়। এর মধ্যেই শিক্ষকরা কয়েক শিফটে রাস্তার ওপর ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম এলেই যন্ত্রনা বাড়ে। ছেলেমেয়েদের বসতে দিতে পারিনা। সব বেঞ্চ, টেবিল পানিতে ভাসছে। টিনশেড ভবনটির মধ্যে ৩ ফুট পানি। অন্য ভাবনটি একই কারণে চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর যেটি আছে সেখানেও হাঁটু পানি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্কুলে প্রায় চারশ ছেলেমেয়ে পড়াশুনা করে। কিন্তু এখানে লেখাপড়ার কোনও পরিবেশ নেই।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্মল কুমার পাল জানান, ‘এ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই। শিক্ষকরা ছেলেমেয়েদের মালটিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে পারছেন না। সরকার তাদের ল্যাপটপ দিয়েছেন। তাও বিদ্যুতের অভাবে পড়ে থাকছে। সরকার সম্প্রতি এক লাখ টাকার একটি বরাদ্দও দিয়েছেন। তা দিয়ে বিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো হয়েছে। এতো কম টাকায় তো পানিবন্দী বিদ্যালয়টি ব্যহারযোগ্য করা সম্ভব নয়।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, ‘স্কুল পরিচালনা করতে আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করছি।’
তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, ‘বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে দেখে গেছেন। তখন তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে কথা বলে একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এসএনএইচ/








