‘আমার জীবন থেকে চিরতরে ফুরিয়ে গেছে ঈদ। উদ্ধারকর্মীরা আমাকে বলেছেন, স্বামীর লাশ পাওয়া গেলে আমাকে দেখাবেন। স্বামীকে জীবিত অথবা মৃত দেখার জন্য এখানে বসে আছি শনিবার থেকে।’ ঈদের পরের দিন টাম্পাকো কারখানার ধ্বংসস্তুপে নিখোঁজ স্বামীকে খুঁজতে এসে এ মন্তব্য করেছেন পারভীন আক্তার।
তিনি বলেন,‘শনিবার থেকে খাবার খেয়েছি কিনা মনে নেই। ঈদের দিন রাতে গুড়া মাছ দিয়ে এক প্লেট ভাত খেয়েছি, তবে শুধু বাঁচার জন্য খাওয়া।’
পারভীনের স্বামী আজিম উদ্দিন (৩৬)টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেডের কারখানায় সহকারী পেইন্টিং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।তার বাড়ি মাগুরা জেলা সদরের ছনপুর গ্রামে।
পারভীন আক্তার বলেন,‘ঈদের দিন মঙ্গলবারও কয়েকজন লোক উদ্ধারের কাজ করেছেন। আমার পরিবারের লোকজন সেখানে ছিল, কিন্তু স্বামীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এখনও পর্যন্ত খোঁজ পাইনি।’
তিনি বলেন,‘শনিবার ভোরে পৌনে ৬টার দিকে বাসা থেকে আমার স্বামী বের হয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই শুনি আগুন লাগার খবর। প্রথমে কারখানা,পরে টঙ্গী হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, আবেদা মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও শেষে আবার টঙ্গী হাসপাতাল ঘুরে কোথাও আমার স্বামীকে পাইনি।’ তিনি জানান,বিয়ে হয়েছে ১১ বছর,তাদের কোনও সন্তান নেই।
উল্লেখ্য, শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর ছয়টা পাঁচ মিনিটের দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর টাম্পাকো প্যাকেজিং কারখানার পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কারখানায় আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সেখানে শ্রমিকেরা রাতের শিফটে কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের পর ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে। বুধবার পর্যন্ত এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জন।
এপিএইচ/








