রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি ‘জবরদখলকারীদের’ উচ্ছেদ ও জমি উদ্ধারের দাবিতে অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ হরতাল পালন করা হয়।
রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন,আখচাষি সমিতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যৌথভাবে এ হরতালের ডাক দেয়।
কর্মসূচি চলাকালে মহিমাগঞ্জে ব্যাংক-বিমা অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
হরতাল চলাকালে সকালে পিকেটাররা মহিমাগঞ্জ রেল স্টেশনের রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়ে সান্তাহার ও লালমনিরহাটগামী ২টি ট্রেন প্রায় ২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ওসির নেতৃত্বে একদল রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসেও এ অবরোধ তুলতে ব্যর্থ হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে রেলপথ অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনগণের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তারা।
এরপর সকাল ১০টায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)আহম্মদ আলী যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিলে ২ ঘণ্টা পর রেলপথের অবরোধ তুলে নেন হরতালকারীরা।
শেষে মহিমাগঞ্জ রংপুর চিনিকল প্রধান ফটকের সামনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান,আখচাষি সমিতির সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নিজেদের বাপ-দাদার জমি দাবি করে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের বেশকিছু জমি দখল করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। এতে করে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আখ রোপন মৌসুম শুরু হলেও রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত রোপন কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। বারবার আশ্বাস দিয়েও প্রশাসন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি উদ্ধারে কোনও ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর, রামপুরা, সাপমারা, ফকিরগঞ্জ ও সাহেবগঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ৮৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত ১ জুলাই প্রায় ১০০ একর জমি দখল করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি একচালা ঘর নির্মাণ করেন।
এ বিষয়ে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি সিলিমিন বাক্সে বলেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে। সেখানে কখনও ওই সব জমিতে আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওই সব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আন্দোলন করেও কাজ হয়নি। বরং তা বেদখল হয়েছে।
তবে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল দাবি করেন অভিযোগটি ভিত্তিহীন। অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়, কখনও চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সে ক্ষেত্রে ওই সব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে।
/এবি/








