বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ হলেও চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আফ্রিকা থেকে এক জোড়া বাঘ আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সাত মাস বয়সী ওই দুটো বাঘ আমদানিতে খরচ পড়বে ৩৩ লাখ টাকা।
জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় কোনও বাঘ নেই। ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর চিড়িয়াখানায় সর্বশেষ বাঘিনী ‘পূর্ণিমা’ রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আর পুরুষ বাঘ ‘চন্দ্র’ মারা যায় ২০০৯ সালে। ২০০৪ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ দুটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়।
আরও জানা যায়, প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচার সামনে ভিড় জমায়। কিন্তু খাঁচায় বাঘ না থাকায় তারা ব্যথিত হন। তাই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিদেশ থেকে বাঘ আমদানি করতে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করেছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য সচিব রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে বাঘ দুটি চিড়িয়াখানায় পৌঁছাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাঘ ছাড়া চিড়িয়াখানা চিন্তা করা যায় না। তাই আফ্রিকা থেকে একজোড়া বাঘ আমদানি করতে আমরা ইতোমধ্যেই স্যালকন ট্রেডার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এ বাঘ আমদানির সব খরচ বহন করবে।’
রুহুল আমিন বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন জাতের প্রাণি আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সম্প্রতি রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে আমরা সিংহীর জন্য একটি সিংহ এনেছি। এছাড়াও খুব অল্প সময়ের মধ্যে চিড়িয়াখানায় আরও কিছু ভিন্ন প্রজাতির প্রাণি আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসে বাঘ দেখতে না পেয়ে শিশুরা মর্মাহত হয়। তাছাড়া বাঘ থাকলে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীও বেশি আসে। তাই আমরা বাঘ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সহকারী তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১২ সালের পর থেকে বাঘের খাঁচাটি শূন্য পড়ে আছে। বাঘ আনার জন্য আমরা ঢাকা চিড়িয়াখানা ও ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে কমপক্ষকে চার দফায় চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনও সাড়া দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনও বিকল্প না থাকায় আমরা একজোড়া বাঘ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি দেশের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকতো তবে আমাদের বাঘ আমদানি করা লাগতো না।’
জমির উদ্দিন নামের এক দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ চিড়িয়াখানার কয়েক প্রজাতির প্রাণি আছে। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই চিড়িয়াখানায় জিরাফ, হাতি, গণ্ডার এবং জলহস্তির মতো বড় প্রাণি রাখা উচিত।’
১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ফয়েস লেক এলাকায় মাত্র ৬ একর জমির ওপর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এখানে ৬৭ প্রজাতির মোট ৩৬০টি প্রাণি আছে। যাদের মধ্যে ৩৪ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বাকিগুলো সরীসৃপ ও অন্যান্য প্রজাতির প্রাণি।
বর্তমানে এ চিড়িয়াখানায় লেঙ্গুর, হনুমান, বানর, মেছো বিড়াল, বুনো বিড়াল, হরিণ, ময়ূর, ধনেশ, বড় গন্ধগোকুল, চিতা বিড়াল, শকুন, কুমির, সারস, কচ্ছপ, অজগর ও শিয়ালসহ অন্যান্য প্রজাতির প্রাণি রয়েছে।
/এসএনএইচ/টিএন/








