খুলনায় চালের দাম বেড়েই চলেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে সবধরণের চালের কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ডিউটি ও ল্যান্ডিং চার্জ বৃদ্ধিতে ভারত ও বার্মা থেকে চাল আমদানি কমে যাওয়া এবং এ অঞ্চলের রাইস মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে চালের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
তবে রাইস মিল মালিকরা বলছেন, ভোক্তারা বেশি দামে চাল কিনলেই কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ফলে কৃষকরা ধান উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছে।
খুলনার সাধারণ চাল ব্যবসায়ী সামছুল হুদা বাদশা বলেন, ‘ডিউটি ও ল্যান্ডিং চার্জ বেশি হওয়ার কারণে চাল আমদানি হচ্ছে না। এ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় স্বর্ণা চাল গত ২ দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যা ৩৬ টাকা ৬৫ পয়সা থেকে ৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে এই চাল বিক্রি হত ২২ টাকা কেজি দরে। এছাড়া দেশীয় মোটা চাল ৩৬/৩৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিগেট চাল ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাইস মিল মালিকরা ধান ও চাল মজুদ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। আগে বড় বাজার থেকে এ অঞ্চলের মংলা, ফয়লা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চাল পাঠাতে হত। এখন ওই সব এলাকার ব্যবসায়ীরা সীমান্ত এলাকা থেকে সরাসরি চাল সংগ্রহ করছে। ফলে বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
খুলনার ধান চাল বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মুনির উদ্দিন বলেন, ‘সরকার ৩ দফায় চাল আমদানির ওপর ২৮ ভাগ ডিউটি ও ১ ভাগ ল্যান্ডিং চার্জ ধার্য করায় আমদানি কমেছে। আমদানি না হওয়ায় দেশীয় ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া প্রধান্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দাম বাড়ছে।’
খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার আরাফাত অটোমেটিক রাইস মিলেল স্বত্ত্বাধিকারী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমার মিলে প্রতিদিন ৮শ’ মন ধান প্রয়োজন হয়। তিনি মিলের উৎপাদন সক্রিয় রাখার জন্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার মন ধান মজুদ রাখেন। তবে, বাজারে চাহিদা থাকায় চাল মজুদ করার কোনও সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা, কুষ্টিয়াসহ এ অঞ্চলের সকল রাইস মিলেই প্রয়োজনীয় ধান মজুদ রাখতে হয়। তা না হলে চাল উৎপাদন ঠিক রাখা যাবে না। বিআর ২৮ ধান কৃষক ও মিলারদের টিকিয়ে রাখছে। যা বাজারের মোটা চালের যোগান ঠিক রাখছে। এই ধানের ফলে কৃষক ও মিলাররা লাভবান হচ্ছে। মিনিগেট বা চিকন চালের একচেটিয়া ব্যবসায় কুষ্টিয়া ও উত্তরবঙ্গের মিলারদের। তারাই চিকন চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে।’
খুলনার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক মাস আগে মোটা চাল ৩১/৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন দাম ৩৭/৩৮ টাকা। ৩৮/৩৯ টাকার মিনিকেট এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪/৪৫ টাকা, ৩৪/৩৫ টাকার বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪০/৪১ টাকায়, ৩২/৩৩ টাকার বিআর-২৯ বিক্রি হচ্ছে ৩৭-৩৮ টাকায়।
ফারাজি পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘চালের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। ফলে মোটা চাল কেনাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। দিনমজুর দিয়ে পাওয়া টাকায় ৫ জনের সংসারের জন্য এক দিনের প্রয়োজনীয় চাল কেনা কঠিন।’
শেখপাড়ার অনিতা সেন বলেন, ‘বিভিন্ন উৎসবের সময় এলেই বাজারের ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে দাম বাড়ানোর জন্য। এর ফলে আমরা সাধারণ ক্রেতারা চাপের মুখে পড়ে যায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন সক্রিয় থাকলেও কোন কাজ হচ্ছে না।’
সাধারণ ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘সরকার নিম্ন বিত্তদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছে। কিন্তু তা প্রকৃত ভোক্তাদের হাতে যাচ্ছে না। যথাযথভাবে ডিলার নির্বাচন ও প্রকৃত ভোক্তা বাছাই ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নিম্নবিত্তরা সরকারের এ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
/এসএনএইচ/








