মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নে দুস্থদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ইউনিয়নে এর ডিলার হচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হুজুর আলী। নির্ধারিত ওজনের চেয়ে চাল পরিমাণে কম দেওয়ায় তার ব্যাপারে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
সরেজমিনে শনিবার দুপুরে নালী ইউনিয়নের বাঠুইমুড়ি বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা ও ডিলার হুজুর আলীর গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের চিত্র। চাল বিতরণ রেজিস্ট্রার খাতায় টিপসইসহ পরিমাপের ঘরে ৩০ কেজি তোলা হচ্ছে। দামও রাখা হচ্ছে ত্রিশ কেজিরই। কিন্তু ওজনে সুযোগ বুঝে ২৭ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ২৯ কেজি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী গাংডুবী গ্রামের রেখা রাজবংশী আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ তিন-চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে চাল নিতে আইছি। কষ্ট কওে আসলাম। দাম দিলাম ৩০ কেজির পাইলাম ২৯ কেজি চাল। এক কেজি চাল আমাগো এক বেলা খাবার। সেটিও রেখে দিলেন ওই নেতা।”
একই গ্রামের আ. রহিম মিয়া বলেন, “কি করুম ওনারা যেভাবে দিচ্ছে আমরা সেইভাবেই নিতে বাধ্য হচ্ছি। আমাগো মতো গরিব মানুষের বলার কিছুই নাই।”
একই এলাকার চায়না রাজবংশী জানালেন, ৫০/৬০ টাকা খরচ করে রিকশা ভাড়া দিয়ে আইছি । দাম রাখলো ত্রিশ কেজির পাইলাম ২৮ কেজি। এটা রীতিমতো জোর যার মুল্লুক তার-এর মতো। চায়না রাজবংশীর সঙ্গে আসা ফেলানী রাজবংশী জানালেন, “কোনও রহম টিস সই দেওয়ার পারি। কম দিলে প্রতিবাদ করতে পারিনা। বুঝবার পারি না।”
এ রকম ২০৭ জন দুস্থের সঙ্গে দুই দফায় চাল বিতরনে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আ’লীগ নেতা ও ১০ টাকার চালের ডিলার হুজুর আলী বিরুদ্ধে।
এই অনিয়নের বিষয়ে হুজুর আলী বলেন, প্রতি কেজি বস্তায় ৩-৪ কেজি চাল কম পাচ্ছি। এই ঘাটটি পূরণের জন্যই ৩০ কেজির জায়গায় ২৯ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেস্বার ও দলের নেতৃবৃন্দ বসেই আমাকে চাল কম দিতে বলেছেন। ওজনে কম না দিলে আমার ভুর্তকি দিতে হবে। হুজুর আলী আরও বলেন, ভাই আমার ইজ্জতটা মাইরেন না। এবারের মতো ক্ষমা করে দেন।
এ ব্যাপারে নালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেন বলেন, ২৯ কেজি করে চাল দেওয়ার জন্য কোনও কথা চেয়ারম্যান মেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ জানান, বিষয়টি জানান পর হুজুর আলীকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপুরের পর থেকে ৩০ কেজি করেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে ওই ইউনিয়নের কলতা বাজারের আরেক ডিলার রবিউল ইসলাম লাভলুর গোডাউনে গিয়ে দেখা গেলো তা বন্ধ। শনিবার সকাল থেকে দুস্থ মানুষজন গোডাউন বন্ধ থাকায় চাল নিতে এসে ঘুরে গেছেন। স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিলার লাভলু মহরমের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কারণে চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ গোডাউন খোলা হবে তা কেউ জানাতে পারেননি।
/এমপি/








