বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কাশিয়ানী উপজেলার তারাইল সমবায় সমিতির পরিচালনা কমিটি। আর কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন সাড়ে ৪শ’ গ্রহক।
এক বছর আগে ক্ষতিগ্রস্থরা প্রতিকার চেয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আলম হোসেন ভুঁইয়াকে দায়িত্ব দেন। তিনি তদন্ত করে নানা অনিয়মের মাধ্যমে সমিতির টাকা আত্মসাতের করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর। আর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের চিঠি কাশিয়ানী ইউএনও বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিটি ইউএনও অফিসের অফিস সহকারী মোহাব্বত হোসেন চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করলেও রহস্যজনক কারণে ইউএনও অফিসে চিঠিটি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রতিবেদন দাখিলের প্রায় ১ বছর পার হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
ক্ষতিগ্রস্থ গ্রহক মোমেনা বেগম রহিমা বেগম জানান, ‘২০১২ সালের তারাইল গ্রামের কামরুল ইসলাম শেখ ও ইউপি মেম্বার সাহের আলী মোল্লাসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তারাইল সঞ্চয় ও ঋণ দান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি সমবায় অধিদফতরের অধীনে নিবন্ধন করেন। তারাইল হাইস্কুল সংলগ্ন মোড় এলাকায় একটি ঘরে কার্যালয় খুলে সমিতির কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ওই এলাকার সহজ-সরল ও সাধারণ মানুষকে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখায়। ফলে সদস্যরা প্রলোভনে পড়ে ব্যাংকে টাকা না রেখে ওই সমবায় সমিতিতে টাকা জমা রাখেন। দৈনিক সঞ্চয়ের মাধ্যমে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সমিতির কর্মীরা। এভাবে সাড়ে ৪শ’ জন সদস্যদের কাছ থেকে ২১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৬ টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করে। পরে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসের দিকে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সদস্যরা তাদের টাকা ফেরত চাইলে সমিতির সংশ্লিষ্টরা নানা তালবাহানা করতে থাকে। এক সময় সমিতির লোকেরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে এবং সদস্যদের নানা ভয়ভীতি দেখানো হয়।’
মো. কাজী রব্বানী নামের এক সদস্য জানান, ‘আমি তারাইল সমবায় সমিতিতে ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা রেখেছিলাম। এখন টাকা চাইলে তারা নানা তালবাহানা করছে।’
এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি ও হিসাবরক্ষক কামরুল ইসলাম শেখ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সব টাকা ঋন হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ঋণ গ্রহীতারা টাকা দিচ্ছে না বলে টাকাগুলো তাদের কাছে আটকা পড়েছে। তবুও টাকা আদায়ের জন্য আমরা কমিটি করে দিয়েছি।’
সহ-সভাপতি ইউপি মেম্বার শাহের আলী মোল্লা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘টাকাগুলো ঋণ গ্রহীতাদের কাছে দেওয়া রয়েছে। এলাকার কিছু সুযোগসন্ধানীরা ঋণ নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করে সমিতির টাকাগুলো ফেরত দিচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল হাসান বলেন, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
/এসএনএইচ/








