বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এবার শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারি বরাদ্দ বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা চাল বিক্রির পর প্রতি মণ্ডপে ২ হাজার টাকা কম ও ৩শ’ টাকা করে কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, একটি মণ্ডপে পূজা না হলেও চালের বরাদ্দ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম কুন্ডু অভিযো অস্বীকার করে বলেছেন, ‘প্রতি মণ্ডপে অর্ধ টন চাল বরাদ্দ হয়েছিল। ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করায় প্রতি মণ্ডপ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা পেয়েছে। শুধু সংগঠনের খরচ বাবদ মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ ৩শ’ টাকা করে দিয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৭৪টি মণ্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়। সরকার প্রতি মণ্ডপে ৫শ’ কেজি হিসাবে ৩৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতর থেকে পূজা মণ্ডপগুলোর সভাপতির নামে ডিও বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরিষদের নেতাদের হস্তক্ষেপে চালগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার দাস রিংকু জানান, ‘পার্শ্ববর্তী ধুনট উপজেলায় বরাদ্দের প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। অথচ সভাপতি নিমাই ঘোষের ভাই নুপুর ঘোষ ২৭ টাকা কেজি দরে চালের বরাদ্দ কিনে নেন। এখানে প্রতি কেজিতে ৩ টাকা কম হিসাবে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ্ডপ কমিটির সভাপতিকে দেওয়া হয়। এরপর সংগঠন খরচ হিসেবে প্রতি মণ্ডপ থেকে ৩শ’ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি মণ্ডপের সভাপতি ১৫ হাজার টাকার জায়গায় ১৩ হাজার ২শ’ টাকা করে পেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেরপুর সদরের ৩১টি মণ্ডপের মধ্যে ব্যক্তিগত ৭টিতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ হাজার করে। এছাড়া ৭৪টির মধ্যে হাটখোলা তরুণ সংঘে পূজা না হলেও সেই মণ্ডপের নামেও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এভাবে অনিয়ম করে নেতারা অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’
এক পর্যায়ে সংগ্রাম কুন্ডু কয়েকটি মণ্ডপে টাকা কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বড় মণ্ডপে বরাদ্দ বাড়াতে এটা করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দে কোনও অনিয়ম করা হয়নি।’
শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার শিউলী সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রথমে ৭৪টি পূজামণ্ডপের বিপরীতে ৫শ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি পূজামণ্ডপে পূজা না হওয়ায় ওই বরাদ্দ বাতিল করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘চালের ডিও সভাপতিদের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা তা কি করেছেন তা জানা নেই।’
এদিকে সরকারি বরাদ্দের চাল বিক্রির টাকা কম পাওয়া মণ্ডপ কমিটির নেতাদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
/এসএনএইচ/








