ছাত্রত্ব না থাকলেও হল ছাড়ছে না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নজরুল হলের ছাত্রলীগের আহ্বায়ক বশির উল্লাহ। ছাত্রদের মারধর ও নির্যাতন করায় গত ৯ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশের পর সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার অত্যাচার থেকে মুক্তি চান।
শিক্ষার্থীদের সূত্র জানায়, ৩ অক্টোবর নজরুল হলে বশিরের ২৬০ নম্বর কক্ষে সাইফুল ইসলাম নামে এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তুচ্ছ ঘটনায় তাকে মারধর করা হয়। মাহফুজুল ইসলাম জিকু নামে ছাত্রলীগের এক কর্মী ওই কক্ষে গিয়ে সাইফুলকে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করলে বশির, তার সহযোগী হল ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ মজুমদার, সদস্য শহীদুল ইসলাম শাহীন,বেনী আমিন সুমন,তৌহিদ,তানভীর,আনোয়ারসহ অন্যরা তাকে বেদম মারধর করে।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৩য় বর্ষের হিরণকে তুলে নিয়ে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এর আগে ৭ জুন ব্যবস্থাপনা বিভাগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জুয়েলকে বেঞ্চের পায়া দিয়ে পেটানো হয়। হলে ৪ শতাধিক ছাত্র তার উৎপাতে অতিষ্ঠ। তার বিরুদ্ধে সিট বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে বশির এখনও হলের সিট দখল করে আছে বলে ছাত্রদের অভিযোগ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বশির বলেছেন,তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। বেয়াদবি করায় তিনি জিকুকে মেরেছেন। সংগঠনের বড় ভাই হিসেবে তিনি সেটা করার অধিকার রাখেন বলেও জানান।
নজরুল হলের হল সুপার জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘বশিরের বিরুদ্ধে ছাত্ররা একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও হলে অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হল ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ টানানো হয়েছে। ১৬ অক্টোবরের পরে হল ত্যাগ না করলে তাদের হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
/এআর/ এপিএইচ/








