প্রজনন মৌসুমে শিকার ও বিক্রিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বগুড়ার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না ইলিশ। তবে বগুড়ার বাসাবাড়িতে বিক্রি হচ্ছে গোয়ালন্দ থেকে আসা বড় বড় ইলিশ।
জানা গেছে, প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মোকাম থেকে খাচিভর্তি ইলিশ আসছে। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা বাসাবাড়িতে গিয়ে এসব ইলিশ বিক্রি করছেন। যার মধ্যে বড় সাইজের মাছ ৬শ’/৭শ’ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, মুখ বন্ধ করতে তারা প্রশাসনে কর্তাদের বাড়িতে ইলিশ উপহার পাঠিয়েছেন।
শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার এক বয়স্ক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বগুড়ায় বাসাবাড়িতে এখন যেসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তা খুবই সুস্বাদু। আমি অনেকদিন এমন স্বাধের ইলিশ খেতে পারিনি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ‘আমার পরিচিত এক ব্যক্তি গোপনে গোয়ালন্দের পদ্মার ইলিশ বগুড়ায় আনছেন। ওই ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে নিজের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের কাছে অন্তত এক মণ ইলিশ বিক্রি করেছেন। এসব ইলিশের অধিকাংশেরই পেটে ডিম রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিচিত রাজবাড়ির গোয়ালন্দের ওই ব্যক্তি বগুড়ার এক পুলিশ কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার বাড়িতে ৫ কেজি করে ইলিশ উপহার পাঠিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বগুড়ার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর জানান, ‘বাসাবাড়িতে গোপনে ইলিশ বিক্রির খবর আমার জানা নেই। এছাড়া কোনও কর্মকর্তার বাড়িতে উপঢৌকন দেওয়ার কথাও আমি শুনিনি। তবে যার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করছেন তাদের ধরার চেষ্টা করা হবে।’
জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুম ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ২৭ জেলার নদ-নদী এবং উপকূলে ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাত ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এরপরও অসাদু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ইলিশ আহরণ ও বিক্রি করছে। মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সাজা দিচ্ছেন, ইলিশ জব্দ করছে। এরপরও ইলিশ বিক্রি বন্ধ নেই।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের পদ্মার বিভিন্ন সাইজের ইলিশ বগুড়ায় আসছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে কৌশল অবলম্বন করছে। অন্যান্য মালের সঙ্গে লুকিয়ে খাচিভর্তি ইলিশ বগুড়া শহর ও বিভিন্ন স্থানে আনা হচ্ছে। অতি গোপনে পরিচিত বাসাবাড়ি ও দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। গত শুক্রবার সকালে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া এলাকায় ৬শ’ টাকা কেজি দরে এবং শনিবার দুপুরে শহরে টিনপট্টি এলাকাতেও ৫শ’ গ্রাম থেকে এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে সচেতন জনগণ প্রজননকালে মা ইলিশ রক্ষায় আহরণ ও বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
/এসএনএইচ/







