ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রবিবারের সহিংস হামলার ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার এখনও কোনও ত্রাণ সহায়তা পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে হামলার ঘটনায় রবিবার রাতে তারা নাসিরনগর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান।
কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী জানান, ‘ফেইসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রতিবাদের নামে রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কয়েকশ লোক লাঠি সোটা নিয়ে একযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়ি ঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। ভেঙে ফেলে ১০টি মন্দির। এসময় গৌর মন্দিরের সেবায়েত শংকর সেন ব্রাক্ষচারী সহ হিন্দু পাড়ার অসংখ্য নারী-পুরুষকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ ঘটনায় এখনও পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বলেন, ‘হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা এখনও পর্যন্ত কোনও ধরনের ত্রাণ বা সাহায্য সহযোগিতা পাননি।’
তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন,‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান এবং নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মোয়াজ্জম হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। ছবি পোস্টের কথিত অভিযোগে স্থানীয়রা রবিবার এক যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল থেকে নাসিরনগর সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। একই সময় তিন থেকে চারশ লোক লাঠিসোটা নিয়ে উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এবং মন্দিরের ওপর হামলা চালায়।
রবিবার রাতে হামলার ঘটনায় নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাত ১২শ লোককে আসামি করে পৃথক দুটি মালা দায়ের করা হয়। পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে নাসিরনগরে ৩ প্লাটুন বিজিবি, দুই শতাধিক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে।
এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে হামলা: ২ মামলায় আসামি ১২শ, গ্রেফতার ৪








