আ.লীগ প্রতিনিধি দলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

নাসিরনগরে হামলার দায় নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বাহাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:১৬আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৩৮

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘু পরিবার ও তাদের মন্দিরে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তাৎক্ষণিকসভায় তিনি এ কথা জানান। এদিকে ঘটনাটির দায় নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বাহাস শুরু হয়েছে। এক পক্ষ আরেকপক্ষের ঘাড়ে দায় চাপালেও কেউ এর দায় নিতে রাজি হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুরে ৫ সদস্য বিশিষ্ট দলীয় প্রতিনিধি দলটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ভাঙচুর করা মন্দির পরিদর্শন করে। এ প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যরা হলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য মারুফা আক্তার পপি, গোলাম রাব্বানী চিনু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন।

নির্যাতিত স্থানীয়দের কাছে ঘটনার বিবরণ শোনেন আ.লীগের পরিদর্শন দলের নেতারা

এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে উপজেলা গৌর মন্দির পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের প্রধান এনামুল হক শামীম বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। যারাই ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের ত্রিপক্ষীয় বাহাস:

এদিকে কওমি মাদ্রাসা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে সভা করার অনুমতি দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে সভা করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে এমনটা হবে ভাবা যায়নি। এ সময় তিনি নাসিরনগর থানা পুলিশের ‍ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইউএনও দাবি করেন, পুলিশ কম থাকায় বিজিবিকে তিনিই খবর দিয়েছেন।

তবে তার সঙ্গে একমত হয়নি স্থানীয় পুলিশ। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদির দাবি করেন, ‘ঘটনার দিন পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনে সব ধরনের চেষ্টা হয়েছে দাবি করে ওসি আব্দুল কাদির বলেন, পুলিশ ভূমিকা না রাখলে খুন খারাপি হতো।এসময় তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা না করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ওসি কাদির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনার দিন জনপ্রতিনিধিদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা পাশে থাকলে আরও সহজভাবে ঘটনাকে সামাল দেওয়া যেত।’

পরে স্থানীয়দের সামনে বক্তব্য রাখেন প্রতিনিধি দলের প্রধান এনামুল হক শামীম

এদিকে পুলিশের দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে উল্টো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তাদেরকেই দায়ী করেছেন নাসিরনগর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মনিরুজ্জামান।ওই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে জনপ্রতিনিধিদের পাওয়া যায়নি পুলিশের এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। সদর উপজেলার এই চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনার সময় তিনি ইউএনওর সঙ্গে একত্রে ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় হামলার খবর পেয়ে সেসব এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালান তারা। তবে সেসময় পর্যাপ্ত পুলিশ থাকলে এ ঘটনা আরও সহজে সামাল দেওয়া যেতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাঠে নেমেছে তদন্ত কমিটি

এদিকে, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি এরইমধ্যে ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক টিম। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য থেকে জানা যায়, শুক্রবার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের এক যুবক ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে, যে ছবিতে মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা গতকাল ওই যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ তিন থেকে ৪শ’ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে এ ঘটনার জন্য হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর চড়াও হয়। এসময় পুরো উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার এবং তাদের মন্দিরের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় তারা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের থামাতে পুলিশ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। পরে রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলায় অজ্ঞাত ১২শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে।

/বিটি/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম