কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারকে আগের রাতে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে মামলার আসামি বেলাল হোসেন বাবুল। তাকে বুধবার দিবাগত রাতে দাউদকান্দির রায়পুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আরাফাত উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তিনি এ কথা জানান। ডিবি পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া আসামি বেলাল হোসেন বাবুলের স্বীকারোক্তি অনুসারে সিএনজি স্ট্যান্ডের কর্তৃত্ব নিয়েই ঘটনার আগের রাতে দাউদকান্দির গৌরিপুরের একটি বাসায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ চেয়ারম্যানের গাড়িটি থামানোর পর অপর গ্রুপের মধ্যে গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে ভেতরে জুলহাস, টেমা রাসেলের নেতৃত্বে পিস্তল থেকে গুলি চালানো হয়। গুলি চালানোর সময় চেয়ারম্যান চালকের পেছনের আসনে বসা ছিলেন। ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাস দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। ওই গাড়ির চালক ও এজাহারভুক্ত ৭ নং আসামি রুবেলকেও গ্রেফতারে ডিবি পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ মো. শাহ আবিদ হোসেন ঘটনারস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ‘ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, ‘আসামিদের নাম-পরিচয় জানা গেলেও অস্ত্র সরবরাহকারী ও নেপথ্যে অন্য কেউ আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ তিনি আরও জানান, ‘ওই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া চেয়ারম্যানের সঙ্গে একই গাড়িতে অবস্থানকারী অপর ৫ জনকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ডে ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসাইন সরকার ও তার সহযোগীদের বহনকারী মাইক্রোবাসে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চেয়ারম্যান মনির ও তার গাড়ি চালকের সহকারী মহিউদ্দিন মারা যান।
নিহত চেয়ারম্যান মনিরের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে ঘটনার রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় দাউদকান্দির জুলহাস, টেমা রাসেল, মোহাম্মদ আলী, নুর মোহাম্মদ, হাসান, রুবেল, বেলাল হোসেন বাবুল, ইয়াছিন, আল আমিন, সাইফুল, সুমন, আবু সাঈদ এবং শাকিলকে আসামি করা হয়।
/এসএনএইচ/








