‘আমার সব সুখ চলে গেল। দুইটা অবুঝ বাচ্চারে নিয়া আমি এখন বাঁচবো কেমন করে?’ শনিবার দিনগত রাতে বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পুলিশের পরিচ্ছন্নকর্মী শ্যামল চন্দ্র দাসের স্ত্রী মুক্তা রাণী এভাবেই আহাজারি করছেন। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে এখন দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার রাত ১টা ১০ মিনিটে বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর বাজার এলাকায় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশের পরিচ্ছন্নকর্মী শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫)। শ্যামলের বাড়ি কুড়িগ্রাম শহরের সদর হাসপাতালের পাশের এলাকায়। হাসপাতালের ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিমে টিনের ঘর করে বসবাস করা শ্যামলদের বাড়িতে ভিড় শোকের মাতম।
শ্যামলের ১১ বছরের মেয়ে প্রীতি তার দাদাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আর ডুকরে উটছে- ‘আমার বাবারে আইনা দাও। কে আর আমাকে প্রীতি মা বলে ডাকবে!’ শ্যামলের দেড় বছরের ছেলে মুগ্ধ জানে না তার বাবা আর কখনও তাকে আদর করবে না।
শ্যামলের মা বাসন্তী রাণী পুত্র শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। আর শ্যামলের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা পরেশ চন্দ্র। সিভিল সার্জন অফিসের চতুর্থ শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মচারী বলেন, ‘ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়া শ্যামলের বউ এখন কী করবে। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই সরকার যেন বৌটার একটা গতি করে।’
এব্যাপারে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ ট্রিবিউনকে জানান, ‘শ্যামল আমাদেরই পরিবারের সদস্য। তার মৃত্যুতে তার পরিবারের যে ক্ষতি হয়েছে তা হয়তো পূরণ হওয়ার নয়। তবে তার স্ত্রী-সন্তানদের কিছু একটা ব্যবস্থা করার বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে দেখবো।’
আরও পড়ুন-
‘হাবু ধান’ বিঘায় ৩৫ মণ
সুন্দরবনে ‘জলে দস্যু, ডাঙায়ও দস্যু’, অসহায় বনজীবীরা
/এফএস/








