ছাত্রলীগ নেতা, গণজাগরণ কর্মী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না তার অনুসারী নেতাকর্মীরা। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তারা। এদিকে ময়না তদন্তের পর দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহ ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসময় এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল আটটায় ক্যাম্পাসগামী প্রথম ট্রেনটি হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ এলাকায় আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে তার অনুসারীরা। এর কিছুক্ষণ পরে ছাত্রবাহী দ্বিতীয় ট্রেনটি পৌঁছালে সেটিকেও সেখানেই আটকে দেওয়া হয়। ফলে আজ সোমবার কোনও ট্রেনই ক্যাম্পাসে পৌঁছতে পারেনি।
একই ঘটনায় হাটহাজারী সড়কের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এলাকায়ও অবরোধ করেন তারা। এসময় তারা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন।
ট্রেন আটকে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সাহাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শহর থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি শাটল ট্রেনই ফতেয়াবাদ এলাকায় আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সকাল থেকে কোনও ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারেনি।
ট্রেন আটকে দেওয়া ও বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে চবি প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী এ বিষয়ে আপাতত কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে, একই দাবিতে নগরীর পাঁচলাইশ থানার প্রবর্তক মোড়েও তিনঘণ্টা অবরোধ পালন করে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এ সময় ওই মোড়ের উভয় পাশে শত-শত যানবাহন আটকা পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন অফিসযাত্রীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আশ্বাস দেওয়ায় তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার রাতে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।পরে পুলিশসুপারের উপস্থিতিতে ঘরের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার ও হাটহাজারী থানার ইউএনওর উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়। সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আলামতও সংগ্রহ করে। আজ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
/টিএন/








