আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর সিরাজগঞ্জে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয় মন্ত্রী ও এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের পেছনে পেছনে ঘুরে গ্রুপিং-লবিং এবং নানা তদবিরেও ব্যাস্ত রয়েছেন কেউ কেউ।
শুরুতেই দু’একজন জাতির পিতা, দলীয় সভানেত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছবি দিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারও সাঁটিয়েছেন। প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন জবাবদীহিতা, স্বচ্ছতা, সার্বক্ষণিক পাশে থাকারসহ নানা উন্নয়নের। সিরাজগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় নেতা বা সংসদ সদস্যদের দেখলেই অনেকটা উপযাচক হয়ে তাদের অনুগ্রহ পেতেও নানা প্রক্রিয়া করছেন অনেকেই।
এমনকি, পূর্ববর্তী দ্বন্দ্ব থাকলেও প্রকাশ্যে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে বা প্রশংসার নানা ফুলঝুড়ি বা সুমিষ্ট মধুর কথা ছুড়ে সাবেক ক্ষত মেটাতে মন ভোলানোর চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। কেউ কেউ আবার একে অপরের নেতিবাচক বা ভুলভ্রান্তিগুলো প্রকাশ্যে উপস্থাপন করে নিজেদের যোগ্যপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতেও কৃপণতা করছেন না।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চাচ্ছেন- সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আনোয়ার হোসেন রতু, চেম্বার প্রেসিডেন্ট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য্য, সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান, অপর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম.হোসেন আলী হাসান, অ্যাডভোকেট বিমল কুমার দাস, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ড. জান্নাত-আরা-তালুকদার হেনরী, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শামসুজ্জামান আলো। তবে ড. জান্নাত-আরা-হেনরী ও অ্যাডভোকেট কেএম.হোসেন আলী হাসান শুরু থেকেই থেকেই প্রকাশ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রহিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘জেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য, পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হবে। ভোট দিবেন পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। এ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে ৯ উপজেলা, ৮১ ইউনিয়ন এবং ৬ পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ১৯২ জন।
অন্যদিকে, এ জেলায় জাসদ, বাসদ ও কমিউনিস্ট পার্টি নির্বাচনে যাচ্ছে না বলে জানান জেলা বাসদের আহ্বায়ক কমরেড নবকুমার কর্মকার।
আর বিএনপির প্রচার ও দফতর সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ খান বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধান পরিপন্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। আর নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
সাবেক মন্ত্রী, বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থীতার বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। এবার শুরু থেকেই আমার প্রার্থী হওয়ার তেমন কোনও ইচ্ছে ছিল না। তারপরেও সমর্থক ও দলের নেতাকর্মীর অনুরোধে ও চাপে শেষ পর্যন্ত আমি মনোনায়ন ফরম জমা দিয়েছি। তবে দলীয় সিদ্ধন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সভানেত্রী যাকে পছন্দ করবেন, দলও তার পক্ষেই কাজ করবে।’
এদিকে, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কেন্দ্রীয় নেতাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সকল প্রার্থীদের পোস্টারে তার ছবি ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করে বলেন, ‘দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সকলককে কাজ করতে হবে।’
/এসএনএইচ/








