নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হলে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে চান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে ‘মাস্টার প্ল্যান’ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড কনভেনশন হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে ‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদ নেই’ স্লোগানে মেয়র প্রার্থীদেরকে নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে আইভী ও সাখাওয়াত এসব কথা বলেন। ২২ ডিসেম্বরের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, গণরায় মেনে নিয়ে ভবিষ্যতেও জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন এবং জয়ী হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ছয় মেয়র প্রার্থী।
নির্বাচনে সাত জন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এলডিপির কামাল প্রধান সরে দাঁড়িয়েছেন। দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর, বিকেলে সুজনের অনুষ্ঠানে হাজির হন। তবে তিনি মঞ্চে উঠে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে সমর্থন দিয়ে নেমে যান।
সুজনের সাধারণ সম্পাদক ডা. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ।
সুজন-এর জেলা সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার, জেলা সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটাররা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুষ্ঠু নির্বাচন, কালো টাকার প্রভাবমুক্ত রাখা, দুর্নীতিমুক্ত রাখা, স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, জবাবদিহিতাসহ ১০ বিষয়ে মেয়র প্রার্থীদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়। পরে চলে বক্তব্য ও প্রশ্নোত্তর পর্ব।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘আমি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হলেও স্বতন্ত্রভাবে দলমত নির্বিশেষে আগের মতোই উন্নয়ন করে যাবো। বিগত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের সুযোগ ছিল না। আমি গত নির্বাচনের সময়ও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি দলমত নির্বিশেষেই উন্নয়ন করেছি। গত পাঁচ বছরে অনেক চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ কাজ করতে। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সিটি করপোরেশনের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। এখন বাকি ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে হলে আমাকে আবারও আপনারা নির্বাচিত করুন। আমি বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করব। দল মতের ঊর্ধ্বে ওঠে আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে আমি উন্নয়নে কাজ করব। আমি কাজ করেছি, ভুল আমারও হয়েছে। যারা কাজ করেনি, তাদের তো কোনও ভুল নেই। যে কাজ বেশি করে তার ভুলও বেশি হয়।আমাকে আবারও নির্বাচিত করলে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে সকল কাজ সম্পন্ন করব।’
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আমাকে ভোটাররা মেয়র নির্বাচিত করলে আমার প্রথম কাজ হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির নেতৃবন্দকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে মাস্টার প্ল্যান করা। মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। নারায়ণগঞ্জ ময়লা আবর্জনার নগরী থাকবে না। যেসব খাল জবর দখলে রয়েছে, ভরাট করা হয়েছে, সেগুলোকে উদ্ধার করা হবে। শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণে সচেষ্ট থাকব। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস, গুম, খুন, অপহরণ ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলব। যানজটমুক্ত নগরী গড়ব। যানজটমুক্ত করতে ফ্লাইওভার করব। ফুটওভার ব্রিজ করব। গ্যাস-পানি সমস্যার সমাধানে কাজ করব। মোট কথা, আমি দলমত নির্বিশেষে নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নে কাজ করব।’
ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী এহজাহরুল হক বলেন, ‘কোরআন ও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করব। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে যানজটমুক্ত করব। মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় করব।’
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, ‘অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে স্বল্প ঋণের সাহায্যে আবাসন ব্যবস্থা করা হবে। শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে না, শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের সর্বোচ্চ পড়ালেখা ও আগ্রহীদের বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।’
কল্যাণ পার্টির প্রার্থী রাশেদ ফেরদাউস বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে কাজ করা হবে। এছাড়াও শীতলক্ষ্যার পানি দূষণমুক্ত করতে কাজ করা হবে।’
উল্লেখ্য, আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন।
/এসএ/ এপিএইচ/








