আজ নীলফামারীর সৈয়দপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্বারা জীবনবাজী রেখে সৈয়দপুরকে হানাদার মুক্ত করেছিলেন। এই দিন ভোরে ৬ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে আক্রমন চালিয়ে সৈয়দপুর সেনানিবাস দখলে নেয়। এ সময় পিছু হটে খান সেনা ও তাদের দোষরা।
মুক্তির নেশায় মুক্তিকামী পাগল হাজার হাজার মানুষ গ্রাম থেকে শহরে প্রবেশ করে। এ দিন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম কাজী ওমর আলী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে শহরে আনন্দ মিছিল করে সৈয়দপুর পৌরসভা কার্যালয়ে ও আওয়ামী লীগ অফিসে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে।
দিনটি পালনে সৈয়দপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রজন্ম-৭১ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একরামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সৈয়দপুরের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। ২৩ মার্চ যুদ্ধের শুরুতেই এখানে প্রথম শহীদ হন সৈয়দপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাতাব বেগ।
এ ছাড়াও ২৪ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ডা. জিকরুল হক, তুলসীরাম আগরওয়ালা, ডা. সামছুল হক, ডা. বদিউজ্জামান, ডা. ইয়াকুব আলী, যমুনা প্রসাদ কেডিয়া, রামেশ্বরলাল আগরওয়ালা, নারায়ন প্রসাদ, কমলা প্রসাদকে ১২ এপ্রিল চোঁখমুখ বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের সময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পদস্থ কর্মচারীদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পাকসেনারা ও তাদের অবাঙ্গালি দোসরদের হাতে নিহত হয়েছে জেলার অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তি। ১৯৭১ সালের ১৩ জুন মুক্তিযুদ্ধকালীন সৈয়দপুর শহরে সবচেয়ে বৃহৎ গণহত্যা সংঘঠিত হয়। শিশুদের রাইফেলের ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে, খুঁচিয়ে হত্যা করেছিল।’
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. ফজলুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সৈয়দপুরে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প থাকায় হিন্দু মাড়োয়ারীসহ নিরহ বাঙ্গালিদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার চালায় তারা। এ সময় প্রায় ৩৫০ জনকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার নামে গুলি করে হত্যা করে তারা।’
/এসএনএইচ/








