রংপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলেছেন জাসদ (আম্বিয়া-বাদল) সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। নির্দিষ্ট কোনও প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রাহাত আনোয়ারের সঙ্গে দেখা করে তিনি এসব অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযুক্ত প্রার্থী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জাসদ প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মাসুদ নবী মুন্না ও জাসদ রংপুর মহানগর সম্পাদক ছাব্বির আহাম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম পীরগাছা ও পীরগজ্ঞ উপজেলায় গিয়ে ভোটারদের ডেকে এনে সভা করেছেন। ওই সভা শেষে উপস্থিত সবাইকে এক প্যাকেট করে বিরিয়ানি, একটি পানির বোতল ও খামে করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মিঠাপুকুর উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে সিল মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে ভোটারদের।
মুন্না ও ছাব্বির অভিযোগ করে বলছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে ভোটকেন্দ্রে কোনও গোপন স্থান না রাখার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটের নিয়ম হচ্ছে ভোটার নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জাসদ প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়ী হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তারা।
জাসদ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাফিয়া খানম টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই মোটা অঙ্কের টাকা ভরা খাম দিচ্ছেন ভোটারদের।’ এর মাধ্যমে নির্বাচনি আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাফিয়া খানম অ্যাডভোকেট জাসদ প্রার্থীর এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের টাকা দিয়ে ভোট কেনার প্রয়োজন নেই।’ ভোটাররা যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাকেই নির্বাচিত করবেন বলে জানান।
নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ নির্বাচনে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে জানান তিনি।
/টিআর/








