দীর্ঘ ৩৬ বছর পর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ক সংলগ্ন প্রায় আড়াইশ একর এলাকাজুড়ে আজ বৃহস্পতিবার বিভাগীয় ইজতেমা শরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ইজতেমার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হবে। আর শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে আখেরি মুনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে সিলেটের ইজতেমা। সিলেটের ইজতেমাকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে নগর পুলিশ। ইজতেমার মাঠসহ পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে প্রায় ১ হাজারেরও বেশি পুলিশ। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবে র্যাবের সদস্যরা।
ইজতেমার স্কেচ ম্যাপ অনুসারে বিভিন্ন ধাপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ ও র্যাব। এজন্য কয়েকবার ইজতেমার মাঠও পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দায়িত্ব পালনে কেউ অবহেলা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কটোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
সিলেটে এবারের ইজতেমায় প্রায় ১০ লাখ মুলল্লির সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, সিলেট সদর, বিয়ানীবাজার বালাগঞ্জ, সিলেট সদর, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট উপজেলার ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মুসল্লিরা ইজতেমার মাঠে জমায়েত হবেন। ইজতেমায় দেশি-বিদেশি ইসলামি চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামগণ ঈমান, আকিদা, ইসলামের দ্বীনের দাওয়াত, ইসলাম ধর্ম ও আখিরাত সম্পর্কে বয়ান দেবেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বয়ানের সঙ্গে সঙ্গে তা বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, হিন্দু ও আরবি ভাষায় তর্জমা করা হবে।
সিলেটে তিন দিনের ইজতেমায় বয়ান করবেন ভারতের দিল্লি ও ঢাকার কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিরা। বিশ্ব ইজতেমায় যারা বয়ান করে আসছেন সিলেট ইজতেমায় তাদেরই বয়ান করার কথা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইজতেমার মাঠে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে কয়েকবার বৈঠকেও বসেন নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইজতেমার মাঠসহ আশপাশ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইজতেমার মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে দেড়শতাধিক সিসি ক্যামেরা। পুলিশের দুটি ওয়াচ টাওয়ার ও দুটি কন্ট্রোল রুমও স্থাপন করা হয়েছে তদারকি করার জন্য। এছাড়াও মাঠে ও মাঠের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে গোয়েন্দা ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ। দক্ষিণ সুরমাসহ সুনামগঞ্জ বাইপাস, নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও বসবে পুলিশের চেকপোস্ট। তল্লাশি চালানো হবে বিভিন্ন যানবাহন ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জিদান আল মুসা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ইজতেমার মাঠসহ আশপাশ এলাকায় প্রায় ১ হাজারেরও বেশি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। ইজতেমায় চার স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশকে কয়েকটি ভাগ ভাগ করা হয়েছে।
র্যাব সূত্র জানায়, র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে ইজতেমার মাঠসহ আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ও গাড়ি দিয়ে র্যাবের ২৪ ঘণ্টা মনিটিরং থাকবে। ইতোমধ্যে ইজতেমা মাঠের পাশেই র্যাবের কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।
সিলেট র্যাব-৯ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এএসপি সুজন চন্দ্র সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ইজতেমার মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র্যা বের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনও তল্লাশি করা হবে। এছাড়াও ইজতেমার মাঠে সন্দেহজনক ব্যক্তিকেও মনিটরিং করা হবে। কেউ যদি কোনও বিশৃঙ্খলা করতে চায় তাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৬৫ ও ১৯৮৪ সালে সিলেট জেলার সুরমা নদীর দক্ষিণ তীর সংলগ্ন টেকনিক্যাল মাঠে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
/এএ/








