নাটোরের সিংড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় স্কুলে ঢুকে হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সমর্থকরা। আহত প্রধান শিক্ষক বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সিংড়া থানায় আহত প্রধান শিক্ষকের বড় ভাইয়ের দায়ের করা মামলা থেকে বাঁচতে আসামিরা পাল্টা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন। প্রধান শিক্ষক আহত হওয়া ও এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার খবর বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মণ্ডল।
এ ঘটনার শিকার সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। আর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা হলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ভোলা।
রফিকুল ইসলামের দাবি, প্রায় এক মাস আগে জাহেদুল ইসলাম ভোলা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে হুমকি দিয়ে চলে যান ভোলা। পরে ২১ জানুয়ারি, শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাবেদ আলী, জেলা পরিষদের সদস্য সালাউদ্দিন আল আজাদ ওরফে ছানা ও আওয়ামী লীগ কর্মী বাবুকে সঙ্গে নিয়ে ভোলা স্কুলে ঢুকে পড়েন। এসময় তারা রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করেন।
এরপর আহত অবস্থায় রফিকুল ইসলামকে ফেলে রেখে ঘটনা প্রকাশ না করতে উপস্থিত সবাইকে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ভোলা ও তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বড় ভাই রুহুল আমিন বাদী হয়ে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে এজাহার দাখিল করেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে পরদিন দুপুরে এজাহারটি মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করা হয়।’ ভোলা, জাবেদ আলী, ছানা, বাবু ও শাহীনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং এ মামলায় তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মামলা থেকে বাঁচার জন্য রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ভোলা ও তার সহযোগীরা। বুধবার সকালে রফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন তারা। প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, শিক্ষক মারধরের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া ও মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতেই এমন কর্মসূচি পালন করেছে আসামিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার আসামি, চেয়ারম্যান ভোলা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষক রফিকুল ইসলামের অসংখ্য অপরাধ রয়েছে। আমি বা আমার কোনও অনুসারী তাকে মারধর করিনি। এটা তার সাজানো নাটক।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদাও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান। রফিকুল ইসলাম প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিত থাকে বলেও জানান তিনি।
তবে আহত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীদের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যানের অনুসারী বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন-
রামপাল নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে:নসরুল হামিদ
/টিআর/








